যন্ত্রের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করা হয়। মধু খাঁটি হওয়ায় শহর থেকে অনেকে পাইকারি দামে মধু কিনে নিয়ে যান।

কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন রোকনুজ্জামান। ২০০৪ সালে তিনি মাগুরা জেলায় বেড়াতে গিয়ে মৌমাছি চাষ ও মধু সংগ্রহের বিষয়টি দেখেন। পরে আরও কয়েকবার সেখানে গিয়ে মৌ চাষ ও খাঁটি মধু সংগ্রহের কলাকৌশল জেনে আসেন। এরপর নিজ গ্রামে তিনি মৌ চাষ শুরু করেন। এখন মৌ চাষ করেই সংসার চলে রোকনুজ্জামানের।
রোকনুজ্জামানের বাড়ি মেহেরপুরের সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের হাসপাতালপাড়ায়। প্রথমে তিনি ১০ হাজার টাকায় ৪টি মৌ–বাক্স কিনে কাজ শুরু করেন। দিনে দিনে তাঁর মৌ–বাক্স বেড়েছে। সার্বক্ষণিকভাবে তাঁর সঙ্গে কাজ করেন দুজন কর্মী। বর্তমানে প্রতি মাসে মধু বিক্রি করে তাঁর আয় দুই লাখ টাকার বেশি।
সম্প্রতি কুতুবপুর গ্রামে রোকনুজ্জানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, উঠানে মৌ-বাক্সের সারি। মৌমাছির গুঞ্জন ভেসে আসে। প্রতিটি বাক্সের উপরিভাগ কালো পলিথিন দিয়ে মোড়ানো। কালো পলিথিনের মোড়ক খুলে মৌ-বাক্স থেকে কাঠের ফ্রেমে ধরে থাকা মৌচাক বের করা হচ্ছে। এরপর মধু আহরণযন্ত্র দিয়ে চাক থেকে মধু বের করে নেওয়া হচ্ছে।
রোকনুজ্জামান বলেন, মৌ চাষে তাঁর সচ্ছলতা এসেছে। তবে এই মৌ চাষ শুরু করতে অনেকটা সময় লেগেছে। প্রথমে এটি এত লাভজনক ছিল না। ধীরে ধীরে মৌমাছির আচরণ বুঝতে পেরেছেন। মৌ চাষ করে কৃষিজমি ও দোতলা বাড়ি করেছেন। বাড়ির উঠান ছাড়াও এলাকার চারটি বাগানে মৌ-বাক্স রাখা আছে। এখন প্রতি সপ্তাহে তিন মণ করে মধু উৎপাদিত হচ্ছে।
রোকনুজ্জামানের খামারে মাসিক বেতনে কাজ করেন জাহিদুল হোসেন। জাহিদুল বলেন, ‘সাত-আট দিন পরপর মধু সংগ্রহ করা হয়। দুই ধরনের মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করা যায়। একটি প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট, সাধারণত বন্য মৌমাছি গাছের ডাল ও জঙ্গলের চাকে মধু ছাড়ে। অন্যদিকে দেশি মৌ চাষ হয় কাঠের তৈরি বাক্সের মধ্যে। আমরা দ্বিতীয় পদ্ধতিতেই মধু সংগ্রহ করি। এ খামারে দুই শতাধিক মৌ-বাক্স রয়েছে। প্রতিটি বাক্সের দাম সাত-আট হাজার টাকা।
রোকনুজ্জামান বলেন, এখানে যন্ত্রের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করা হয়। মধু খাঁটি হওয়ায় শহর থেকে অনেকে পাইকারি দামে মধু কিনে নিয়ে যান। বর্তমানে প্রতি কেজি মধু ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক স্বপন কুমার খাঁ বলেন, রোকনুজ্জামানের সফলতা দেখে জেলার বেকার যুবকদের মৌ চাষে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। রোকনুজ্জামান উপস্থিত থেকে নানান পরামর্শ দিয়ে থাকেন। বর্তমানে অর্ধশতাধিক বেকার যুবক মৌ চাষে যুক্ত হয়েছেন।