ময়লা-আবর্জনার জায়গায় বাহারি ফুলের বাগান

আবর্জনার জায়গায় ফুলের বাগান। সিরাজদিখান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ছবি: প্রথম আলো
আবর্জনার জায়গায় ফুলের বাগান। সিরাজদিখান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।  ছবি: প্রথম আলো

২০১৯ সালেও হাসপাতালের সামনের জায়গাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। সেখানে ছিল ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। সারাক্ষণ ভনভন করত মশা-মাছি। হাসপাতালের সামনের পরিবেশ কেন এমন থাকবে? পরিবেশটা কি সুন্দর করা যায় না? এই উপলব্ধি থেকে সেখানে করা হলো ফুলের বাগান। চার শতাংশ জায়গা এখন বাহারি ফুলে ভরে গেছে।

কথাগুলো বলছিলেন মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. বদিউজ্জামান। তিনি জানান, দুই বছর আগে তিনি এ হাসপাতালের দায়িত্ব নেন। হাসপাতালের সেবার মান বাড়াতে সাধ্য অনুযায়ী কাজ করছেন তিনি।

বদিউজ্জামান বলেন, হাসপাতালের সামনে পরিত্যক্ত জায়গা ছিল। সেখানে বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনা ফেলতেন রোগীরা। স্যাঁতসেঁতে ওই জায়গা থেকে জন্মাত মশা-মাছি। মাঝেমধ্যে দুর্গন্ধও ছড়াত। প্রতিদিন হাসপাতালে যেতে-আসতে জায়গাটি তাঁর চোখে পড়ত। অসুস্থ মানুষ সুস্থ হতে এখানে আসে। অথচ এমন পরিবেশ রোগীদের হাসপাতালে প্রবেশের পর অস্বস্তিতে ফেলত। তিনি বলেন, ‘গত বছরের শেষ দিকে আমি সিদ্ধান্ত নিই, হাসপাতালের সামনের পরিবেশ সুন্দর করব। যেমন ভাবা তেমন কাজ। নিজ উদ্যোগে, হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় বাগানটি গড়ে তোলা হয়।’

হাসপাতালটির মূল ফটক দিয়ে ঢুকতেই বাঁ দিকে দেখা যায়, লাল, হলুদ, সাদা—রংবেরঙের ফুল। যে জায়গায় ময়লা-আবর্জনার স্তূপ ছিল, সেখান থেকে সুঘ্রাণ ছড়াচ্ছে। রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা বাগানের পাশে বেড়াতে আসছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বাগানটিতে গোলাপ, গাঁদা, জবা, ডালিয়াসহ ২০ প্রজাতির ফুলগাছ আছে। এ ছাড়া হাসপাতালের মসজিদের পাশেই আছে একটি ভেষজ বাগান। হাসপাতালের যে নালা দিয়ে ময়লা পানি যেত, তার ওপরে স্ল্যাব বসানো হয়েছে। সাজানো হয়েছে ফুলের টব।

মো. নাসিরউদ্দিন নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘আগে হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করলেই নাকে ওষুধ ও ময়লার গন্ধ লাগত। এখন হাসপাতালের ভেতরে ঢুকলেই বাহারি ফুলের সুঘ্রাণ পাই। মনটাই ভালো হয়ে যায়।’

কয়েকজন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা বলেন, পরিত্যক্ত জায়গায় বাগান প্রশংসার দাবি রাখে। প্রতিটি হাসপাতালে এমন দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান রোগী ও হাসপাতালের জন্য খুব দরকার।

হাসপাতালটির মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (বিসিজি/ইপিআই) মো. আলমগীর হোসেন গাজী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. বদিউজ্জামানের আন্তরিকতা, সদিচ্ছা, আর্থিক সহযোগিতা ও নিপুণ পরিকল্পনায় হাসপাতালের সামনের পরিত্যক্ত জায়গায় মনোমুগ্ধকর এই ফুলের বাগান গড়ে তোলা হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন বহির্বিভাগে পাঁচ শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। রোগীরা বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করেন। ভর্তি রোগীরা সকাল-সন্ধ্যা বাগানের পাশে হাঁটাহাঁটি করছেন। হাসপাতালের কর্মচারীরা নিয়মিত ফুলগাছের যত্ন নিয়ে থাকেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বদিউজ্জামান বলেন, বাগান করার পর হাসপাতালের চিত্র পাল্টে গেছে। হাসপাতালের কর্মী ও রোগী—সবাই জায়গাটি পরিষ্কার রাখছেন। গন্ধযুক্ত জায়গা থেকে ফুলের সুবাস ছড়াচ্ছে। রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা বাগানে বেড়াতে আসছেন।