রংপুরে পথের 'কাঁটা' বিদ্যুতের খুঁটি

রংপুর নগরের কলেজ সড়কের মাঝে বিদ্যুতের এ রকম চারটি খুঁটি রয়েছে। বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও এগুলো সরানো হচ্ছে না। এ কারণে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। গত সোমবার নগরের কুড়িগ্রাম বাসস্ট্যান্ডের পাশে। ছবি: প্রথম আলো
রংপুর নগরের কলেজ সড়কের মাঝে বিদ্যুতের এ রকম চারটি খুঁটি রয়েছে। বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও এগুলো সরানো হচ্ছে না। এ কারণে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। গত সোমবার নগরের কুড়িগ্রাম বাসস্ট্যান্ডের পাশে।  ছবি: প্রথম আলো

খুঁটিগুলো ছিল সড়কের পাশে। সড়ক প্রশস্ত করার কারণে সেগুলো পড়েছে মাঝখানে। এরপর কেটে গেছে চার বছর। এত দিনেও খুঁটিগুলো সরানো হয়নি। এসব ‘কাঁটা’র যন্ত্রণা নিয়েই চলাচল করছে যানবাহন। এ কারণে মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা।

এ অবস্থা রংপুর নগরে। এখানকার কলেজ সড়কের ওপর রয়েছে বিদ্যুতের চারটি খুঁটি। নগরবাসী এগুলোকে বলছেন পথের কাঁটা।

নগরের বাবু খাঁ এলাকার বাসিন্দা সংস্কৃতিকর্মী মাসুদ রানা বলেন, এ রাস্তা দিয়ে দিনের আলোয় কোনো রকমে চলাচল করা গেলেও রাতের বেলা খুব অসুবিধা হয়। তার ওপর যদি বিদ্যুৎ না থাকে, তাহলে খুব ভয় হয়—কখন লাগে ধাক্কা!

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ ও সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের জুনে রংপুর নগরের সড়কগুলো চার লেন করার কাজ শেষ হয়। সে সময় প্রায় ১৬ কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশ স্থান থেকে বিদ্যুতের খুঁটি সরানো হলেও কয়েকটি স্থান থেকে সরানো হয়নি। সেগুলো এখনো রয়ে গেছে। খুঁটিগুলো সরানোর জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ বিভাগকে এক বছর ধরে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। এরপরও নগরের গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের কয়েকটি খুঁটি সরানো হয়নি। তাই যানবাহনগুলো ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে।

সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আজম আলী বলেন, নাগরিকদের চলাচলে দুর্ভোগ কমাতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে কয়েক দফা বিদ্যুৎ বিভাগকে জানানো হয়েছে। এরপরও সেগুলো সরানো হয়নি।

গত সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, নগর থেকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লালবাগ হাট ও কারমাইকেল কলেজসহ ১৫টি পাড়া-মহল্লায় যাওয়ার পথ কলেজ সড়ক। এ সড়কের কুড়িগ্রাম বাসস্ট্যান্ডের পাশে সড়কের ওপর বিদ্যুতের চারটি খুঁটি। এ অবস্থার মধ্য দিয়েই সাবধানে চলাচল করছে যানবাহন।

পথচারী ও যাত্রীরা বলেন, খুঁটিগুলো যেন সড়কের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এগুলো না সরানোর কারণে এ পথে শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি–পেশার নাগরিকদের চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। এই বুঝি ঘটে দুর্ঘটনা—এই ভয়ে থাকতে হচ্ছে।

এ সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক নগরের আদর্শপাড়ার বাসিন্দা রহিম মিয়া বলেন, ‘সেই কত বছর হয়া গেল রাস্তা বড় করা হইল। কিন্তু এলাও এই রাস্তা থাকি খুঁটি সরল না। প্রত্যেক দিন এই খুঁটিগুলাত কোনো না কোনো অটোর ধাক্কা লাগে।’

কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী নগরের বনানী পাড়ার বাসিন্দা আছিয়া আক্তার বলেন, বাজার থেকে কেনাকাটা করে ফেরার সময় গত শনিবার তাঁদের বহনকারী অটোরিকশা বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খায়। অল্পের জন্য তাঁরা প্রাণে রক্ষা পান।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কমিটির জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আফতাব হোসেন বলেন, ‘চার বছর হয়ে গেল চার লেন সড়ক নির্মাণের। কিন্তু এই সড়কের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে এখনো বিদ্যুতের খুঁটি সরানো হয়নি। এ কারণে যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অবিলম্বে এসব খুঁটি সরানোর জোর দাবি জানাই।’

জানতে চাইলে সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান বলেন, মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার দেড় বছরের মধ্যে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। আস্তে আস্তে এসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সড়কের মধ্যে বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে (নেসকো) জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন বলেন, চার লেন সড়কসহ আরও কিছু সড়ক প্রশস্ত হওয়ায় বিদ্যুতের খুঁটিগুলো সড়কের মধ্যে পড়ে। সেগুলো আস্তে আস্তে সরানো হয়েছে। তবে কলেজ সড়কের চারটি খুঁটি এখনো সরানো হয়নি। শিগগিরই সরানো হবে।