
ভোলার সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের অ্যাডভোকেট ইউনুছ মিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর গতকাল শনিবার সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। এর প্রতিবাদে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বেলা একটার দিকে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে বিচারের আশ্বাসে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা স্থান ত্যাগ করে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলে, ইউনুছ মিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে মো. চঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে চটপটি বিক্রি করছেন। তাঁর দোকানে এলাকার বখাটেরা বসে আড্ডা দেয় এবং বিদ্যালয়ের মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে। এ কারণে চঞ্চলকে চটপটির দোকান সরিয়ে নিতে বলা হয়। দোকান সরিয়ে নেওয়ার কথা বললে গত বুধবার বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনকে চটপটিওয়ালা বখাটেদের নিয়ে কিল-ঘুষি মেরে লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটিকে জানানো হয়। গতকাল সকালে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে এ ঘটনার সালিস বসে।
সালিসে বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. মেহেদী হাসান, প্রধান শিক্ষক মো. নুরনবী, ধনিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. জসিম উদ্দিন, সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যের প্রতিনিধি মো. মনির, চটপটিওয়ালা চঞ্চলসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিল। এ সময় চটপটিওয়ালা চঞ্চলের ইঙ্গিতে কিছু বহিরাগত সন্ত্রাসী এসে বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনে প্রবেশ করে এবং প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষকদের ওপর চড়াও হয়। তারা শিক্ষকদের গালমন্দ করে।
একপর্যায়ে বখাটে বজলুর রহমান, মো. কিরণ ও মো. ইয়ামিন চেয়ার দিয়ে প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। তাঁকে তাৎক্ষণিক ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিদ্যালয়ের সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, তাঁরা প্রধান শিক্ষককে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরপরই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গেছে।
শিক্ষার্থীরা বলে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে তারা আরও কঠোর আন্দোলনে যাবে।
জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মৃধা মো. মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি ফৌজদারি অপরাধ। এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে হবে। জেলা প্রশাসক (মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক) জরুরি কাজে জেলার বাইরে আছেন। তিনি এলে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।
ভোলা সদর মডেল থানার ওসি মো. ছগির মিঞা বলেন, শিক্ষককে মারধরের ঘটনা তিনি শুনেছেন। তবে কেউ তাঁর কাছে অভিযোগপত্র দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।