শের-ই-বাংলা মেডিকেলের দন্ত বিভাগের সব যন্ত্র বিকল, চিকিৎসা বন্ধ

দন্ত বিভাগের এসব ডেন্টাল চেয়ার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গত মঙ্গলবার থেকে সেবা বন্ধ আছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বিভাগের কার্যক্রম। গতকাল বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দন্ত বিভাগে। ছবি: প্রথম আলো
দন্ত বিভাগের এসব ডেন্টাল চেয়ার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গত মঙ্গলবার থেকে সেবা বন্ধ আছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বিভাগের কার্যক্রম। গতকাল বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দন্ত বিভাগে।  ছবি: প্রথম আলো

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দন্ত বিভাগের যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়ায় বিভাগটির চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে বিভাগটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেন নিয়মিত ও শিক্ষানবিশ চিকিৎসকেরা।

গতকাল বুধবার সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসকেরা বসে আছেন। রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ। শিক্ষানবিশ চিকিৎসকেরা পাঠদানের জন্য এলেও যন্ত্রপাতি বিকল থাকায় পাঠদান করানো যাচ্ছে না। দুই মাস ধরে এক্স-রে মেশিন বিকল থাকায় সেই কক্ষটিও তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। হাসপাতালের এ বিভাগে রোগী ভর্তি বন্ধ থাকায় শয্যাগুলো খালি পড়ে আছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, হাসপাতালের দন্ত বিভাগের বহির্বিভাগে প্রতিদিন অন্তত ১০০ ও অন্তর্বিভাগে কমপক্ষে ৫০ জন রোগীর সেবা দেওয়া হতো।

হাসপাতালের দন্ত বিভাগের চিকিৎসকেরা জানান, ২০১২ সালে হাসপাতালের পঞ্চম তলায় স্বতন্ত্র দন্ত বিভাগের কার্যক্রম ও শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হয়। এরপর হাসপাতালের ডেন্টাল বিভাগ অর্থাৎ যেখানে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়, সেখানে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় পরের বছর আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। ২০১৫ সালে ডেন্টাল বিভাগটিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে ডেন্টাল চেয়ার, এক্স-রে মেশিনসহ আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ছিল।

এক মাসের বেশি সময় ধরে দন্ত বিভাগের ডেন্টাল চেয়ারগুলো বিকল হয়ে আছে। সর্বশেষ ভালো অবস্থায় থাকা দুটি ডেন্টাল চেয়ার গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে বিকল হয়ে যায়। আর এক্স-রে মেশিনটি অকেজো দুই মাসের বেশি সময়।

সূত্র জানায়, ২ কোটি ৭০ লাখ টাকায় ২০১৫ সালে ১০টি ডেন্টাল চেয়ার সংযোজন করা হলেও এর পাঁচটি শুরু থেকেই অকেজো ছিল। পাঁচটি চেয়ার ঠিক থাকলেও গত পাঁচ বছরে দুই দফায় সেগুলো মেরামত করতে হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সেই পাঁচটি চেয়ারও অকেজো হয়ে পড়ে। এখন এগুলো মেরামতেরও অনুপযোগী।

শিক্ষার্থীরা জানান, বিভাগটির এ সমস্যার সমাধানে কয়েক বছর ধরে প্রশাসন কেবল আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে হাতে–কলমে না শিখে শিক্ষার্থীরা মুখস্থবিদ্যার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিভাগটি চালুর জন্য ২০১৫ সালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থাইল্যান্ডে তৈরি ১০টি ডেন্টাল চেয়ারের চাহিদাপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। মন্ত্রণালয় থেকে তা সরবরাহের জন্য অনুমোদনও দেওয়া হয়। কিন্তু যে চেয়ার সরবরাহ করা হয়, সেগুলো চীনে তৈরি ও খুবই নিম্নমানের। এ জন্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, প্রতিটি চেয়ারের মূল্য ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা ধরলেও বাংলাদেশের বাজারে এসব চেয়ারের সর্বোচ্চ মূল্য ১ লাখ টাকা। ২০১৫ সালে যে প্রতিষ্ঠান চেয়ারগুলো সরবরাহ করেছে, তারা চাহিদাপত্র অনুযায়ী চেয়ার সরবরাহ না করায় এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিম্নমানের চেয়ারগুলোই বুঝে নেওয়ায় এখন বিভাগটির কার্যক্রমই বন্ধ হয়ে গেল।

হাসপাতালের দন্ত বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. শাহরিয়ার বলেন, প্রতিদিন বহির্বিভাগ থেকে পাঠানো শতাধিক রোগীকে অন্তর্বিভাগে সেবার জন্য পাঠানো হয়। এ ছাড়া, মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী রয়েছেন তিন শতাধিক। যন্ত্রপাতি বিকল থাকায় রোগীদের অন্তর্বিভাগে সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। আবার শিক্ষার্থীদের পাঠদানও করা যাচ্ছে না।

শিক্ষানবিশ চিকিৎসক পল্লব সরকার বলেন, যন্ত্রপাতি বিকল থাকায় নার্স ও কর্মচারীরা অলস সময় পার করছেন। আরেক শিক্ষানবিশ চিকিৎসক রিয়াদ মাহামুদ বলেন, হাতে–কলমে শিক্ষা না পেলে হাতুড়ে চিকিৎসক হয়ে বের হতে হবে।

হাসপাতালটির পরিচালক মো. বাকির হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। দ্রুতই সমস্যার সমাধান হতে পারে।