
মেয়ে জামিলার (৭) মামা বাড়ি যাওয়ার আবদার মেটাতে স্ত্রী, সন্তান আর ভাতিজিকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলেন পেশায় ভ্যানচালক রফিক কাজী। সকালে গিয়ে সারা দিন থাকার পর বিকেলে রওনা হয়েছিলেন বাড়ির পথে। নিজের ব্যাটারিচালিত ভ্যানটির চালকের আসনে ছিলেন তিনি, যাত্রী স্ত্রী–সন্তানেরা। হঠাৎ পথে এক বাসের ধাক্কায় সব যেন ওলটপালট হয়ে গেল পরিবারটির।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের কাশিয়ানী উপজেলার মিল্টন বাজারে বাসের ধাক্কায় মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা গিয়েছিল রফিক কাজীর আট মাসের শিশু নুর মোহাম্মদ। হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান স্ত্রী মীরা (৩৫)। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মঙ্গলবার সকালে তাঁর মেয়ে জামিলাও চলে গেল না ফেরার দেশে। রফিক কাজীর বাড়ি কাশিয়ানী উপজেলার নিজামাকান্দি ইউনিয়নের ফলসি গ্রামে।
এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। তাঁরা হলেন রফিক কাজী, তাঁর মেয়ে নীলা (৯) ও ভাতিজি শুভা (১১)। সবাইকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক অসিত কুমার মল্লিক প্রথম আলোকে বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় দুর্ঘটনায় আহত চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে জামিলা (৭) নামের একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্যরা এখন পর্যন্ত সুস্থ। সবাইকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুর রহমান জানান, ওই গৃহবধূ কাশিয়ানী উপজেলার তিলছাড়া গ্রামের বাবার বাড়ি থেকে স্বামী রফিক কাজীর ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফলসী গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে মিল্টন বাজারে গোপালগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাওয়া কাশিয়ানীর ব্যাসপুরগামী একটি লোকাল বাস তাঁদের ভ্যানটি চাপা দেয়। এতে শিশুপুত্র নূর মোহাম্মদ মায়ের কোল থেকে ছিটকে রাস্তার ওপর পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মীরা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জামিলা (৭) মারা যায়।