স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে থানায় প্রীতিভোজ

সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রীতিভোজের আয়োজন করে বরগুনার তালতলী থানার পুলিশ। আজ শুক্রবার থানা চত্বরে
ছবি: প্রথম আলো

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সারা দেশে চলছে লকডাউন। লকডাউনের সময় জনসমাগম না করাসহ বেশ কিছু নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পুলিশের। অথচ সরকারি এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে বরগুনার তালতলী থানায় আজ শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়।  

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে  বিয়ে, জন্মদিনসহ যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে জনসমাগম নিষিদ্ধ করেছে সরকার। সরকারি এই বিধি উপেক্ষা করে বরগুনার তালতলী থানায় শুক্রবার বেলা ২টায় প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। এতে রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার দেড় শতাধিক মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে পুলিশের সদস্যরা খাবার পরিবেশন করেন। তবে কোনো পুলিশ সদস্যের মুখে মাস্ক ছিল না। মানা হয়নি কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি।

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে এ প্রীতিভোজের আয়োজন করায় স্থানীয় লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলছেন, ১৬ মের পরে দেশে কঠোর বিধিনিষেধ আসছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এমন সময়ই থানার কর্মকর্তারা যদি স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে জনসমাগম করেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কতটা স্বাস্থ্যবিধি মানবেন। পুলিশের ওই আয়োজনে তালতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজবি-উল-কবিরও অংশ নেন।

এ বিষয়ে তালতলী সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘থানার প্রীতিভোজে আমাকেও দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দেশের চলমান করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন চলায় ও ঝুঁকি থাকায় আমি সেখানে যাইনি।’

এ বিষয়ে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, পুলিশ সদস্যদের খাওয়ানো হয়েছে। এখানে কোনো  রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ছিলেন না। শুধু তালতলী উপজেলার পরিষদ চেয়ারম্যান রেজবি-উল-কবির ও দুজন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

প্রীতিভোজে উপস্থিত থাকার বিষয়ে জানতে তালতলী উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান রেজবি-উল-কবিরের মুঠোফোনে ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।
এ বিষয় জানতে চাইলে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এই সময় কোথাও কোনো অনুষ্ঠান করা যাবে না।  তালতলীতে এমনটা হয়ে থাকলে সেটা দুঃখজনক ঘটনা।