
করোনাভাইরাসের কারণে এখন হোটেল–রেস্তোরাঁ বন্ধ। সরকারি নির্দেশে ঘরের ভেতরে থাকছে মানুষ। বাড়িতে ঢোকার ফটকও বন্ধ। এ ছাড়া রমজান উপলক্ষে অধিকাংশ বাড়িতে দুপুরের রান্নাও হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে আশপাশের কুকুর-বিড়াল খাদ্য পাচ্ছিল না। পরে এদের খাবারের ব্যবস্থা করে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন করোনা প্রতিরোধ কমিটি (সিপিসি)।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিপিসির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘কুকুর–বিড়ালও তো বাঁচতে চায়। খাদ্যের জন্য ওরা ত্রাণের লাইনে দাঁড়াতে পারে না, সরকারের পরিষেবা নম্বরে ফোনও করতে পারে না। নিজেরা রান্না করতেও অক্ষম। বিষয়টি উপলব্ধি করে আমরা প্রতিদিন অন্তত ১০টি গ্রামের কুকুর-বিড়ালের জন্য রান্না করা খাবার পৌঁছে দিচ্ছি।’
মিজানুর রহমান জানান, কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ এলাকার অন্তত ৩০ জন তরুণ করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে করোনা প্রতিরোধে নানাবিধ কার্যক্রম শুরু করেন। প্রশাসনকে সহযোগিতার পাশাপাশি নিজেদের মতো করেও তাঁরা কাজ করছেন। উপজেলা প্রশাসন থেকে ইতিমধ্যে তাঁদের স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে প্রত্যয়ন করাও হয়েছে। সর্বশেষ তাঁরা খেয়াল করেন, সরকারসহ ব্যক্তি ও সংগঠন পর্যায়ে অনেকে সাধারণ মানুষকে সহযোগিতার জন্য দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু মানুষের ওপর নির্ভরশীল কুকুর-বিড়ালের টিকে থাকা মুশকিল হয়ে পড়েছে। ক্ষুধার যন্ত্রণায় কুকুর–বিড়াল পাড়া, মহল্লা ও হাটবাজারে আর্তনাদ করছে। কেউ কেউ চলাফেরা করতে পারছে না। বিষয়টি তাঁদের নজরে আসার পর স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে তাঁরা আলোচনা করেন। সেখান থেকেও কিছু সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। ব্যক্তিগতভাবে নিজেরাও তহবিল গঠন করেন। পরে গত রোববার সন্ধ্যা থেকে শুরু করেন কুকুর-বিড়ালদের রান্না করা খাদ্য সরবরাহের কাজ। এই কয়েক দিনে তাঁরা উপজেলার বিহারকোল, মালঞ্চি, দয়রামপুর, তমালতলা ও জামনগর বাজার এলাকার বেওয়ারিশ কুকুর-বিড়ালদের খাদ্য সরবরাহ করেছেন। মোট ২০০টি কুকুর-বিড়ালকে তাঁরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত খাওয়াবেন।
সংগঠনটির জামনগর ইউনিয়নের দলনেতা রাজিবুল ইসলাম জানান, তাঁরা বাজার থেকে কম দামের মাছ ও মাংসের উচ্ছিষ্ট অংশ কিনে এনে চাল দিয়ে খিচুড়ি রান্না করেন। রান্না করা খাবার ভ্যানে তুলে বিভিন্ন হাটবাজার ও মোড়ে মোড়ে গিয়ে রেখে আসেন। সাধারণত সন্ধ্যার পর তাঁরা এই কাজ করেন। প্রথম দু-এক দিন কুকুর-বিড়াল কম পাওয়া গেলেও গত বুধবার থেকে অনেক কুকুর–বিড়াল খাবার খাচ্ছে।
অন্যান্য ইউনিয়নে সংগঠনের কর্মী জোবাইদা খাতুন, নয়ন আলী, মিঠুন কুমার পাল, সুমন কুমার ও বোরহান আলী দায়িত্ব পালন করছেন।
বাগাতিপাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রিয়াংকা দেবী পাল জানান, সিপিসি শুরু থেকেই করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে। সর্বশেষ তারা বেওয়ারিশ কুকুর–বিড়ালদের নিয়মিত খাদ্য সরবরাহ করে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছে। তাদের সবারই সহযোগিতা করা উচিত।