কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ

৪০ শতাংশ কাজও হয়নি

চলতি জুনের মধ্যে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার কাজ শেষ হওয়ার কথা। দীর্ঘদিনেও সেবা না পেয়ে ক্ষোভ।

প্রয়োজনীয় যন্ত্রের অভাবে এখনো চালু হয়নি কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা। গতকাল পাবনা জেনারেল হাসপাতালে।
 ছবি: প্রথম আলো

পাবনা জেনারেল হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার কাজ শুরু হয় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। চলতি মাসেই সে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখনো এ সেবা চালু করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ না থাকায় ২০১৯ সালে শয্যা এলেও হাসপাতালটিতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চালু হয়নি।

এ কারণে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে জেলার করোনায় আক্রান্ত রোগীদের। এসব সেবা চালু না হওয়ার পেছনে ভারতের লকডাউনকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আইয়ুব হোসেন বলেন, কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার অধিকাংশ মালামাল ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। কিন্তু ভারতে করোনার কারণে লকডাউন থাকায় মালামাল আমদানিতে দেরি হয়েছে। তবে ইতিমধ্যেই কিছু মালামাল চলে এসেছে। আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করা যাবে। আর এটি চালু হলে আইসিইউও চালু হবে।

পাবনা জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে হাসপাতালটিতে আইসিইউ ইউনিট চালুর জন্য ৪টি শয্যা ও ৪টি কার্ডিয়াক মনিটর আসে। এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় অক্সিজেনের সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য দরপত্র হয়। চলতি জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত ৪০ শতাংশ কাজও শেষ হয়নি।

এদিকে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই দীর্ঘদিনেও হাসপাতাল থেকে এসব সেবা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলার বাসিন্দারা। গতকাল রোববার ‘আমরা পাবনাবাসী’ ব্যানারে মানববন্ধন করেছেন তাঁরা। শহরের আবদুল হামিদ সড়কে ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর অতি দ্রুত জেলায় পিসিআর ল্যাব, কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা ও আইসিইউ ইউনিট চালুর দাবিতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনের কাছে স্মারকলিপি দেন মানববন্ধনকারীরা।

ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে করোনাকালীন জরুরি সেবার জন্য অবিলম্বে জেলায় পিসিআর ল্যাব স্থাপন, কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা ও আইসিইউ চালুর দাবি তুলে বিভিন্ন পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করা হয়। বক্তব্য দেন পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক এ বি এম ফজলুর রহমান, প্রেসক্লাবের সম্পাদক সৈকত আফরোজ, তহুরা আজিজ ফাউন্ডেশনের পরিচালক দেওয়ান মাহবুব প্রমুখ।

২০২০ সালের ১৬ এপ্রিল জেলার প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এ পর্যন্ত ৪ হাজার ১৪০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মারা গেছেন ২৩ জন। বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৩৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সংক্রমণ ব্যাপক আকার ধারণ করলেও তা মোকাবিলায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ২৫০ শয্যার পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নামমাত্র করোনা ইউনিট খোলা হলেও প্রয়োজনীয় সুবিধা না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না।

জেলার সিভিল সার্জন মনিসর চৌধুরী বলেন, পিসিআর ল্যাব স্থাপনের কাজ চলছে। জেলার জন্য পিসিআর মেশিন বরাদ্দ হয়েছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে মেশিনটি স্থাপন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।