চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

'অবিলম্বে চাকসু নির্বাচন দিন'

চাকসু
চাকসু

অবিলম্বে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চাকসু ভবনের তৃতীয় তলায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। সম্মেলনে আরও পাঁচটি দাবি উত্থাপন করা হয়।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ধীষণ প্রদীপ চাকমার সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবা জাহানের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক গৌরচাঁদ ঠাকুর। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন দপ্তর সম্পাদক জিতায়ন চাকমা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক উজ্জল চৌধুরী প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে চাকসু নির্বাচন হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতন্ত্র চর্চা ব্যাহত হচ্ছে। ছাত্র প্রতিনিধি না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক স্বৈরতন্ত্র জারি হয়েছে। রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চর্চায় বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে পড়ছে। পাশাপাশি নির্বাচন বন্ধ থাকায় ক্যাম্পাসে টেন্ডারবাজি ও হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত সংঘটিত হয়েছে।
ধীষণ প্রদীপ চাকমা বলেন, ‘ডাকসুর নির্বাচন ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এখন চাকসু নির্বাচন চাই। এ নির্বাচনের মাধ্যমে আগামী দিনের যোগ্য নেতা বের হয়ে আসবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতন্ত্র চর্চার জন্য অবিলম্বে চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।’

নেতা-কর্মীদের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা ছয়টি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—চাকসু নির্বাচনের জন্য সকল ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে প্রশাসনের জরুরি বৈঠকের আয়োজন করা, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নিবন্ধন বাতিল করা, নির্বাচনের লক্ষ্যে গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটি গঠন করা, ভোটার তালিকা প্রণয়ন, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক নিষেধাজ্ঞা বাতিল ও সকল ছাত্র সংগঠনের রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা।

দাবি আদায়ে কর্মসূচি
দাবি আদায়ে নেতা-কর্মীরা আজ বুধবার থেকে আগামী ১৫ দিন গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করবে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। ৬ মার্চ বিক্ষোভ মিছিলসহ ১২ মার্চ ক্যাম্পাসের জয় বাংলা ভাস্কর্যের সামনে কবিতা পাঠের আসর বসবে। ১৮ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। এ ছাড়া দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকবেন বলে জানান নেতা-কর্মীরা।
সর্বশেষ চাকসু নির্বাচন হয় ২৯ বছর আগে। ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনের সময় দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। নির্বাচনের ১০ মাস পর এরশাদের পতন হয়। এরপরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে কয়েক দফায় ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে। তবে কেউই চাকসু নির্বাচন নিয়ে মাথা ঘামায়নি।