'কণ্ঠে নয়, হাসন রাজাকে ধারণ করতে হবে হৃদয়ে'

মরমিসাধক হাসন রাজাকে নিয়ে আয়োজিত সেমিনারে গান পরিবেশন করছেন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘শিকড়’–এর শিল্পীরা। গতকাল সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রথম আলো
মরমিসাধক হাসন রাজাকে নিয়ে আয়োজিত সেমিনারে গান পরিবেশন করছেন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘শিকড়’–এর শিল্পীরা। গতকাল সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে।  প্রথম আলো

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বদৌলতে মরমি কবি হাসন রাজার পরিচিতি বিশ্ব আকাশে প্রস্ফুটিত হয়েছে। হাসন রাজা এখন কেবল সিলেটের সম্পদ নন, তিনি সারা দেশেরই সম্পদ ও গৌরব।

মরমি সাধক হাসন রাজাকে নিয়ে গতকাল শনিবার সিলেটে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। কণ্ঠে নয়, হাসন রাজার গানকে হৃদয়ে ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা আরও বলেন, তাঁর প্রচলিত গানের পাশাপাশি অপ্রচলিত গানগুলোও ছড়িয়ে দিতে হবে। তবেই হাসন রাজাকে প্রকৃত অর্থে ধারণ করা হবে। হাসন রাজার কর্মময় জীবনকে বিশ্বের নানা ভাষাভাষী মানুষের কাছে বোধগম্য করতে তাঁর গানের অনুবাদের ওপরও গুরুত্ব দেন বক্তারা।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটরিয়ামে দুপুর ১২টায় এই সেমিনারের আয়োজন করে হাসন রাজা মিউজিয়াম ট্রাস্ট। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ঢাকার জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে মুবিন।

স্থানীয় সরকার সিলেটের পরিচালক মো. মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভারতের প্রখ্যাত গবেষক শেখ মকবুল ইসলাম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফারজানা সিদ্দিকা ও অধ্যাপক মাজহার মোশাররফ এবং স্থপতি ফারিহা বিনতে ফিরোজ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. রাশেদ তালুকদার, হাসন রাজা মিউজিয়াম ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সামেরীন দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক মলয় চক্রবর্তী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সিলেটের প্রবীণ সংগীতশিল্পী হিমাংশু বিশ্বাসকে সম্মাননা জানানো হয়।

বক্তৃতায় এ কে মুবিন বলেন, ‘ঐতিহ্য কেবল সাহিত্যের ক্ষেত্রে নয়, সব ক্ষেত্রেই রক্ষা করতে হবে। ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করতে হবে। হাসন রাজার গানের ঐতিহ্য যেমন আমরা ধারণ করব, তেমনি সব ধরনের ঐতিহ্য সংরক্ষণে আমাদের মনোনিবেশ করতে হবে। সম্প্রতি সিলেটের আবুসিনা ছাত্রাবাস রক্ষায় অনেকে কাজ করছেন, ভবনটি রক্ষা করে আমাদের ঐতিহ্যের প্রতি সমর্থন জানানো উচিত।’

সেমিনার পর্বের পর হাসন রাজার গান পরিবেশন করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘শিকড়’ এবং সুনামগঞ্জের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হাসন ভুবন’। এ ছাড়া শিল্পী হিমাংশু বিশ্বাস ‘ও মন মনিয়া রে’ এবং ‘ও রে আমার পাগলা মাঝি’ গান দুটি গেয়ে শোনান। সংগঠন দুটির শিল্পীরা হাসন রাজার বেশ কিছু প্রচলিত-অপ্রচলিত গান গেয়েছেন।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, সমকালীন বিশ্বে হাসন রাজার গানের প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। নিজেকে জানার এক অনন্ত আকাঙ্ক্ষা ছিল তাঁর মনে। তাঁর সৃষ্টিতেও সেই ছাপ পাওয়া যায়। জীবনব্যাপী এক আত্মোপলব্ধি ও আত্মবিশ্লেষণের ভেতর দিয়ে হাসন রাজা এক সাধনলোকের সন্ধান পেয়েছিলেন। সাম্প্রদায়িক ধর্মের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে সর্বমানবিক ধর্মীয় চেতনার এক লোকায়ত ঐক্যসূত্র রচনা করে হাসন রাজার গান।

রামকানাইগীতির কর্মশালা

সংগীত পরিষদ সিলেটের উদ্যোগে শেষ হয়েছে একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রয়াত শিল্পী রামকানাই দাশ রচিত গানের দুই দিনব্যাপী কর্মশালা। গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটায় নগরের কিনব্রিজ এলাকার সম্মিলিত নাট্য পরিষদের মহড়াকক্ষে সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি শুভেন্দু ইমাম। কর্মশালার সমন্বয়ক মামুন পারভেজ পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন।

সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন লিডিং ইউনিভার্সিটির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোস্তাক আহমাদ দীন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মেধালয় স্কুলের অধ্যক্ষ বিদ্যুৎ কান্তি দাশ, গ্রিন ডিজঅ্যাবল্ড ফাউন্ডেশনের শিক্ষক স্বপন মাহমুদ, প্রশিক্ষক নীলেন্দু ভট্টাচার্য ও ধরণী কান্ত দাস। পরে কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী ৭০ জন প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়।