ডিএসসিসি

'নির্বাচন হইছে তো কী'

আগামীকাল নির্বাচন। তবে অনেক ভোটার নির্বাচনের খবর জানেনই না। আবার কোনো কোনো ভোটার নির্বাচনের খবর জানলেও আগ্রহ কম। এমন চিত্র ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন অন্তর্ভুক্ত ওয়ার্ডগুলোর ভোটারদের মধ্যে।
২০১৬ সালের মে মাসে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল, সারুলিয়া, ডেমরা, মান্ডা, দক্ষিণগাঁও ও নাসিরাবাদ ইউনিয়নকে ৫৮ থেকে ৭৫ নম্বর পর্যন্ত ১৮টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়। দক্ষিণের এই ১৮ ওয়ার্ডে ভোটার ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৫১০। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৫ হাজার ৪১৬ ও নারী ভোটার ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৪।
দনিয়ার নুরপুর এলাকার ৬০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন। গতকাল মঙ্গলবার দনিয়ার একটি চায়ের দোকানে তিনি বসে গল্প করছিলেন। এ এলাকার ভোটার হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচন কবে তা তিনি জানেন না বলে জানান। একই এলাকার আরেক ভোটার মিন্টু শেখ বলেন, ‘আমি শুনছি সামনে সিটির ভোট। তয় ভোট নিয়ে এখন আর আগ্রহ নাই। জানিই তো কোন দল জিতব।’
৬০ নম্বর ওয়ার্ড নুরপুর-১, নুরপুর-২, দনিয়া, পাটেরবাগ, মুক্তধারা, ইসলামবাগ, পলাশপুর, জনতাবাগ, স্মৃতিধারা, দক্ষিণ রায়েরবাগ, মেরাজনগর, মদিনাবাগ, দক্ষিণ জনতাবাগসহ দনিয়ার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত।
যাত্রাবাড়ীর কিছু অংশ ও কদমতলী থানার আংশিক এলাকা নিয়ে ৬১ নম্বর ওয়ার্ড গঠন করা হয়েছে। এ এলাকার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোট নিয়ে তাঁদের আগ্রহ তেমন নেই। কারণ, ভোটের মাঠে তাঁরা শুধু আওয়ামী লীগের প্রার্থীকেই পেয়েছেন। বিএনপিবিহীন এই নির্বাচনে অন্য যাঁরা আছেন, তাঁরা নৌকার প্রার্থীর সঙ্গে খুব একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না বলে তাঁরা জানান। তাই ভোট নিয়েও তাঁদের মধ্যে আগ্রহ কম।
মান্ডা খালপাড় এলাকার ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, ‘নির্বাচন হইছে তো কী হইছে। ভোটের প্রতি এহন আমাগো আগ্রহ নাই।’ কেন আগ্রহ নেই প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছাড়া তো আর কোনো প্রার্থীই চোখে পড়ে না। তাহলে কিসের নির্বাচন।
৭১ নম্বর ওয়ার্ডটি গ্রিন মডেল টাউন থেকে কাজিবাড়ি, হিরু মিয়া সড়ক, লালমিয়া সড়ক ও মান্ডা খালপাড় নিয়ে গঠিত।