'পরিকল্পনার অভিধান না মেনেই গড়ে উঠছে শহরগুলো'

‘বরণীয় গুণীজন: জীবনকথা ও কর্মকৃতি’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্থপতি জেরিনা হোসাইন। সংগৃহীত
‘বরণীয় গুণীজন: জীবনকথা ও কর্মকৃতি’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্থপতি জেরিনা  হোসাইন।  সংগৃহীত

স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ সৈয়দা জেরিনা হোসাইন বলেছেন, ‘যেভাবে আমাদের শহরগুলো গড়ে উঠেছে তা কোনো পরিকল্পনার অভিধান মেনে চলে না। শহরের মধ্যে সবুজ ভূমি বা পার্কের জায়গা ধ্বংস করা হচ্ছে অতিরিক্ত মুনাফার চিন্তায়। পাশাপাশি ফুটপাতে মানুষের হাঁটার জায়গাও কমে গিয়েছে।’ গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কদম মোবারক এলাকায় মাসিক নারীকণ্ঠ পত্রিকার আয়োজনে ‘বরণীয় গুণীজন: জীবনকথা ও কর্মকৃতি’ শীর্ষক মাসিক অনুষ্ঠানে এবারের গুণীজন হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সৈয়দা জেরিনা হোসাইন শৈশব–কৈশোর, শিক্ষাজীবন, স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ হিসেবে অর্জিত নানা অভিজ্ঞতার কথা শোনান। নারীকণ্ঠের সহকারী সম্পাদক মাহবুব উল আলমের সঞ্চালনায় এতে প্রধান আলোচক ছিলেন লেখক আলম খোরশেদ। শিক্ষাবিদ আনোয়ারা আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাহিত্যিক ফেরদৌস আরা আলীম, তহুরীন সবুর ডালিয়া, জিনাত আজম, নারীকণ্ঠের সম্পাদক ও প্রকাশক শাহরিয়ার ফারজানা ও সালমা রহমান।

সৈয়দা জেরিনা হোসাইন বলেন, ‘আমি বেড়ে উঠেছি সিলেটের চা–বাগানে। বাবা চা–বাগানে কর্মরত ছিলেন। কাজের প্রশিক্ষণ ও পরিবেশ যে-কারণেই হোক বাবার মধ্যে ধর্মীয় গোঁড়ামি বা রক্ষণশীলতা ছিল না। তাঁর ওই বিশেষ গুণটি নিজের মধ্যে পেয়েছিলাম।’

তিনি বলেন, ছেলেমেয়েরা বইবিমুখ হয়ে পড়েছে। স্কুল-কলেজে মুখস্থ করার প্রবণতা বাড়ছে। নিজের মতো করে লিখলে অনেক জায়গায় নম্বর কম দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। ফলে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা নষ্ট হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে আলম খোরশেদ বলেন, স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ হিসেবে সৈয়দা জেরিনা হোসাইন সুপরিচিত। কিন্তু তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়—তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। এ ছাড়া তিনি নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত আছেন। সব মিলিয়ে তিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে প্রেরণার।

সম্পাদক ও প্রকাশক শাহরিয়ার ফারজানা বলেন, জেরিনা হোসাইনের কর্মজীবন ও অভিজ্ঞতা শহরকে নিয়ে আরও গভীর ভাবনার অবকাশ তৈরি করবে।