মামলা
মামলা

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে বগুড়ায় ৪ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা

বগুড়ায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে জড়িয়ে মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে একটি পত্রিকার সম্পাদকসহ চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বগুড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক মহাস্থান পত্রিকার সম্পাদক ও বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ তানভীর আলম বাদী হয়ে গতকাল সোমবার বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালতে মামলার আবেদন করেন।

আদালতের বিচারক মেহেদী হাসান শুনানি শেষে আবেদনটি আমলে নিয়ে এজাহার হিসেবে রেকর্ড ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট (সদর) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১, ৫০৪ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার বিবাদীরা হলেন দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, প্রতিবেদক সালেহ কায়সার ও বগুড়া প্রতিনিধি শাসমুল আলম। তাঁরা পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করে বাদী এবং বগুড়ার সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলমের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন বলে মামলার আরজিতে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার আরজিতে বলা হয়, ১২ জুন বগুড়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘এবার সাংবাদিকদের উপদেশ দিলেন রাস্তা–কাণ্ডে বিতর্কিত প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম’ শিরোনামে একটি পোস্ট প্রচার করা হয়। এ ছাড়া ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। বিবাদীরা কোনো ধরনের নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব তথ্য প্রচার করেছেন। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তি ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

নিজেকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর শুভাকাঙ্ক্ষী উল্লেখ করে মামলার বাদী তানভীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছর পর বগুড়াবাসী একজন প্রতিমন্ত্রী পেয়েছেন। মীর শাহে আলমের হাত ধরে বগুড়ার উন্নয়ন শুরু হয়েছে। সেই উন্নয়ন থামিয়ে দিতে কিছু কুচক্রী ব্যক্তি প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নানা বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর অপপ্রচারে নেমেছেন। এ জন্য বগুড়াবাসীর পক্ষ থেকে এই মামলা করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ও শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওহাব বলেন, বাদীর আবেদন ও প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার জন্য সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী বলেন, ‘আদালতের আদেশ এখনো হাতে পাইনি। আদেশের নথি হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’