
জামায়াতের সমালোচনা করে কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেছেন, ‘জামায়াত কিন্তু দুই নাম্বার দল। এই পৃথিবীতে একটামাত্র মুনাফেকের দল ইসলামের নাম বলে, তার নাম হইল জামায়াত। হেফাজতে ইসলামের আমির বলেছেন, “কাফের যদি ক্ষমতায় যায়, ইসলাম ফেরত আসতে পারে; কিন্তু জামায়াত ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশে আর ইসলাম ফেরত আসবে না।”’
মিঠামইনের এক নির্বাচনী পথসভায় এ কথা বলেন ফজলুর রহমান। গতকাল শনিবার বিকেলে মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত পথসভায় ফজলুর রহমান বলেন, প্রতীক বরাদ্দের পর এটিই তাঁর নির্বাচনী মাঠে প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রচারে অংশগ্রহণ। এর আগে প্রচারের প্রথম দিন ২২ জানুয়ারি ভৈরবে তারেক রহমানের জনসভায় যাওয়ার পথে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। ওই দিন বিকেলে তাঁকে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৪ জানুয়ারি বিকেলে তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ফলে নির্বাচনী প্রচারণার মাঠে নামতে পারেননি তিনি। সুস্থ হওয়ার পর গতকাল ঢাকা থেকে এসে সরাসরি পথসভায় যোগ দেন।
সবার কাছে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রত্যাশা করে ফজলুর রহমান বলেন, ‘যে কথাটা বাংলাদেশে সাহস করে কেউ বলে না, সেই কথাটা আমি সংসদে বলব। আমি সংসদে যাওয়ার অর্থ হলো, একটা বাতি সব সময় জ্বলতে থাকবে। এই বাতি হলো সত্য কথা বলার বাতি। যে কথাটা বাংলাদেশে সাহস করে কেউ বলে না, সেই কথাটা আমি বলব। কাজেই ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের মানুষেরা আমাকে ভোট দিলে আপনারা গৌরবান্বিত হবেন। আমি আপনাদের কাছে ভোট চাই এই কারণে, হাওরাঞ্চলকে আমি সোনার সংসার করতে চাই।’
নিজের বয়সের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে ফজলুর রহমান আরও বলেন, ‘আমার বয়স ৭৮ বছর, আমার বয়সের শেষ সীমা। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আগামী পাঁচ বছর পর মুক্তিযোদ্ধাদের সবার বয়স ৮০ বা ৮২ বা ৮৫ হবে। আপনারা ইচ্ছা করলে আমার শেষজীবনে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে ভোট দিয়ে গৌরবান্বিত হতে পারেন। মুক্তিযোদ্ধাকে ভোট দেওয়ার জন্য আর পাবেন না আপনারা।’
ঘাগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাজমুল হাসান ভূঞার সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে ফজলুর রহমানের স্ত্রী জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি উম্মে কুলসুম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আফতাব উদ্দিন ভূঞা, সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল্লাহ মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন রুবেল, উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম মোল্লা, ঘাগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মিয়া প্রমুখ বক্তব্য দেন।