যাত্রীবাহী বাসের টিকিট না পেয়ে ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক ও পিকআপে করে কর্মস্থলে ফিরছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। আজ শুক্রবার দুপুরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের শেরপুর উপজেলার ঢাকা কোচ টার্মিনাল এলাকায়
যাত্রীবাহী বাসের টিকিট না পেয়ে ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক ও পিকআপে করে কর্মস্থলে ফিরছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। আজ শুক্রবার দুপুরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের শেরপুর উপজেলার ঢাকা কোচ টার্মিনাল এলাকায়

বগুড়ার শেরপুর

কর্মস্থলে ফিরতে ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে উঠছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা

পোশাক কারখানার শ্রমিক বর্ণা খাতুন (৩০)। চাকরি করেন ঢাকার গাজীপুরে। কর্মস্থলে ফিরতে আজ শুক্রবার সকাল থেকে বসেছিলেন বগুড়ার শেরপুরে ঢাকা কোচ টার্মিনালে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত তিনি বাসের টিকিট পাননি। পরে গাজীপুর যেতে ঝুঁকি নিয়ে উঠে পড়েন ট্রাকের পেছনে।

আজ সকাল থেকে দুপুর বর্ণা খাতুনের মতো এই কোচ টার্মিনালের আশপাশে বাসের টিকিটের অপেক্ষায় ছিলেন পোশাক কারখানায় কাজ করা অন্তত ৩ থেকে ৪ হাজার নারী-পুরুষ। একপর্যায়ে তাঁদের অনেকেই পণ্যবাহী ট্রাক ও লেগুনায় উঠে বসেন গন্তব্যে যেতে।

মহাসড়কের এই স্থানে ট্রাকের পেছনে উঠতে অপেক্ষা করছিলেন আল আমিন নামের একজন পোশাকশ্রমিক। তাঁর বাড়ি বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায়। তিনি বলেন, আগামী রোববার থেকে তাঁকে কারখানায় যোগদান করতে হবে। এ কারণেই জীবনের ঝুঁকি হলেও তাঁকে ট্রাকে উঠতে হচ্ছে। ট্রাকে করে ঢাকায় যেতে তাঁকে ৪০০ টাকা ভাড়া দিতে হবে।

গাজীপুরগামী পণ্যবাহী ট্রাকের চালকের সহকারী হযরত আলী বলেন, ঈদের পর পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা যখন কর্মস্থলে ফেরেন তখন শেরপুরে বাসের সংকট দেখা দেয়। এ কারণে প্রতিবারের ন্যায় এবারও শেরপুর থেকে শ্রমিকদের ট্রাকে তুলে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছেন। জনপ্রতি ভাড়া নিচ্ছেন ৪০০ টাকা করে। একটি ট্রাকের পেছনের অন্তত ৭০ জন ব্যক্তিকে তোলা হয়।

আজ সকাল থেকে বগুড়ার শেরপুরে ঢাকা কোচ টার্মিনালের আশপাশে বাসের টিকিটের অপেক্ষায় ছিলেন পোশাক কারখানায় কাজ করা অন্তত ৩ থেকে ৪ হাজার নারী-পুরুষ

আজ শুক্রবার ওই কোচ টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শেরপুর উপজেলার পোশাক কারখানার নারী-পুরুষ শ্রমিকসহ জেলার সারিয়াকান্দি, ধুনট, নন্দীগ্রাম, সিরাজগঞ্জের কাজীপুর ও তাড়াশ উপজেলার অন্তত ৩ থেকে ৪ হাজার নারী-পুরুষ বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন।

ধুনট উপজেলার লোকমান আলী, সারিয়াকান্দির তহমিনা খাতুন, নন্দীগ্রামের লিয়াকত আলী বলেন, আশপাশের ছয়টি উপজেলার অন্তত ৩০ হাজার নারী-পুরুষ ঢাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। প্রতিবছর ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরতে তাঁরা পর্যাপ্ত বাস পান না। ট্রাকে উঠে চলাচল করা অবৈধ ও জীবনের ঝুঁকি। তবু বাসের টিকিট না পাওয়ার কারণে ঝুঁকি নিয়ে পণ্যবাহী ট্রাকের পেছনে উঠে ঢাকায় যেতে হয়।

ঢাকা কোচ টার্মিনালে অবস্থিত এস আর ট্রাভেলস, শ্যামলী পরিবহন, হানিফ পরিবহনসহ একাধিক বাস কাউন্টারে গিয়ে জানা যায়, তাদের কাছে কোনো টিকিট নেই। এ কারণেই অপেক্ষায় থাকা এসব নারী-পুরুষকে টিকিট দিতে পারছেন না।

পোশাক কারখানার শ্রমিক সুফিয়া খাতুন, জোছনা বেগম ও সোলাইমান আলী বলেন, আঞ্চলিক সড়কগুলোতে চলাচল করা বাস এনে স্ট্যান্ডে রাখা হয়েছে। এসব বাসের জন্যও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। গাজীপুর যেতে তাঁদের ভাড়া দিতে হয় ৭০০ টাকা। এ কারণে তাঁরা ট্রাকের পেছনে উঠছেন।

বগুড়ার শেরপুর থেকে ট্রাকে করে ঢাকায় যেতে জনপ্রতি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৪০০ টাকা। আজ শুক্রবার দুপুরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের শেরপুর উপজেলার ঢাকা কোচ টার্মিনাল এলাকায়

বগুড়া জেলা বাস মিনিবাস ও কোচ পরিবহন মালিক সমিতির শেরপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা প্রথম আলোকে বলেন, বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কের অন্তত শতাধিক বাস পোশাক কারখানার শ্রমিকদের কর্মস্থলে নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। শেরপুর থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে অন্তত ৫০টি বাস ঢাকায় গেছে। বাসগুলো যমুনা সেতু থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় যানজটে আটকে গেছে। এ কারণে এসব বাস রাতেই শেরপুরে ফিরতে পারেনি। ফলে শেরপুর কোচ টার্মিনালে কয়েক হাজার পোশাকশ্রমিক বাসের অপেক্ষায় আছেন। অপেক্ষায় থাকা অনেক শ্রমিক ট্রাকের পেছনে উঠে পড়ছেন।

শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নূর হোসেন বলেন, পোশাক কারখানার শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকের পেছনে না উঠতে তাঁরা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু অধিকাংশ শ্রমিক কথা শুনছেন না। যেসব ট্রাকের পেছনে শ্রমিকদের তোলা হবে, সেসব ট্রাকের চালকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।