ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে দুর্ঘটনায় আহত রিক্তা আক্তারকে জেলা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেন স্বজনেরা। তখনো তাঁকে জানানো হয়নি একই দুর্ঘটনায় বাবা ও ছেলের মৃত্যুর খবর। আজ বিকেলে তোলা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে দুর্ঘটনায় আহত রিক্তা আক্তারকে জেলা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেন স্বজনেরা। তখনো তাঁকে জানানো হয়নি একই দুর্ঘটনায় বাবা ও ছেলের মৃত্যুর খবর। আজ বিকেলে তোলা

সরাইলে যাত্রীবাহী বাস খাদে

দুর্ঘটনায় বাবা ও ছেলের মৃত্যুর খবর জানেন না চিকিৎসাধীন রিক্তা

বোনের বাড়িতে বেড়ানো শেষে তিন ছেলে ও বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন রিক্তা আক্তার। কিন্তু এর আগেই ঘটে দুর্ঘটনা। তাঁদের বহনকারী অতিরিক্ত গতির যাত্রীবাহী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে উল্টে পড়ে। এতে রিক্তার বাবা ও সাত বছর বয়সী ছেলে নিহত হয়। আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রিক্তাকে আজ সোমবার বিকেল পর্যন্ত এ খবর জানানো হয়নি।

আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বৈশামুড়া এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের এ দুর্ঘটনা ঘটে। যাত্রীবাহী বাসটি খাদে পড়ে এক শিশুসহ চারজন নিহত হন। আহত হন অন্তত ১৫ জন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের আরশ আলী (৭০) এবং তাঁর নাতি আলিফ মিয়া (৭)। আলিফ রিক্তা আক্তারের ছেলে। দুর্ঘটনায় রিক্তা ও তাঁর অপর দুই ছেলে—মো. আজমাইন (৯) ও মো. আজিম (২) আহত হয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় রিক্তার ডান হাতের কবজি ও কনুইয়ের মাঝামাঝি অংশের দুটি হাড় ভেঙে গেছে। আজমাইনের নাক ও মুখে এবং আজিমের ডান হাত ও ঠোঁটের নিচে আঘাত লেগেছে। তাদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। রিক্তার শ্বশুরবাড়ি সরাইল উপজেলার বারিউড়া গ্রামে। তাঁর স্বামী সবুজ মিয়া বর্তমানে প্রবাসে আছেন।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিক্তা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি তিন সন্তান নিয়ে বাসে বসে ছিলাম। কিসের সঙ্গে যেন ধাক্কা লেগে বাস পাশের খাদে পড়ে যায়। এরপর কী হয়েছে, আমি কিছুই জানি না।’

রিক্তার ভাগনে মাহিন মিয়া বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে যান। পরে রিক্তা ও তাঁর দুই ছেলেকে হাসপাতালে আনা হয়। রিক্তার হাতের হাড় ভেঙে যাওয়ায় এবং শিশু আজিমের আঘাতের কারণে তাদের এক্স-রে করানো হয়েছে। পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। মাহিন আরও বলেন, ‘নানা ও মামাতো ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ এখনো মামি জানেন না। বাড়িতে নিয়ে তাঁকে বিস্তারিত জানানো হবে।’

রিক্তার চাচা শ্বশুর হোসেন মিয়া বলেন, বাবাকে সঙ্গে নিয়ে তিন সন্তানসহ হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন রিক্তা। সেখান থেকে ফেরার পথে প্রথমে তাঁরা মাধবপুরে আসেন। পরে মাধবপুর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরমুখী দিগন্ত পরিবহনের একটি লোকাল বাসে ওঠেন। হোসেন মিয়া আরও বলেন, বাসটি সরাইলের বৈশামুড়া এলাকায় পৌঁছে একটি পণ্যবাহী ট্রাককে অতিক্রম করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে উল্টে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই আরশ আলী, আলিফ মিয়াসহ চারজন নিহত হন। আহত হন রিক্তা, তাঁর দুই সন্তানসহ অন্তত ১৫ জন যাত্রী।

সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অর্থোপেডিক সার্জন সোলায়মান মিয়া বলেন, রিক্তার ডান হাতের কবজি ও কনুইয়ের মাঝামাঝি অংশের দুটি হাড় ভেঙে গেছে। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।