
বিশ্বকাপ খেলা দেখার জন্য ১০ জুন দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর যুব উন্নয়ন সমিতির সদস্যরা চাঁদা তুলে একটি টিভি কিনেছেন। কিন্তু নিয়মিত খেলা দেখতে পারছেন না তাঁরা। ক্লাবের সদস্য আরিফুল ইসলাম বলছেন, ‘চাঁদা তুলে ধারদেনা করে টিভি কিনলাম, কিন্তু বিদ্যুৎ বিনে ঠিকমতো খেলাই দেখা যাচ্ছে না। রাতে গরমে এমন অবস্থা ঘরেও থাকা যাচ্ছে না। আবার বাইরে বের হলে মশার যন্ত্রণা। সব মিলিয়ে খুব ভোগান্তিতে পড়েছি।’
আরিফুল জানান, গতকাল মঙ্গলবার মাগরিবের সময় বিদ্যুৎ গেছে। আসছে রাত নয়টায়। পরে রাত সাড়ে ১০টায় বিদ্যুৎ গেছে। আসছে ১২টায়। রাত একটায় ফ্রান্স আর সেনেগালের খেলা শুরু হয়। বিরতির সময় বিদ্যুৎ গেছে। আসছে রাত ২টা ২০ মিনিটে। ভোরের দিকে আবার বিদ্যুৎ চলে গেছে। সকাল সাতটায় আসছে। আর্জেন্টিনা আর আলজেরিয়া খেলাটা ৪০ মিনিট দেখতে পারছেন তাঁরা। পরে আবার বিদ্যুৎ চলে গেছে।
দিনাজপুরে কয়েক দিন ধরে ঘনঘন লোডশেডিং হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন মানুষ। শহরে লোডশেডিংয়ের মাত্রা কম থাকলেও গ্রামে ৮-৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। একবার গেলে এক থেকে সোয়া ঘণ্টা পরে বিদ্যুৎ আসছে।
উপজেলার ঈশ্বরগ্রাম আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, ‘রাতে তো বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগ হচ্ছেই। দিনেও প্রায় অর্ধেক সময় লোডশেডিং হচ্ছে। আজ (বুধবার) সকাল ৯টা থেকে বিকেল সোয়া ৪টা পর্যন্ত চারবার বিদ্যুৎ গেছে। কয়েক দিন থেকে তাপমাত্রাও বেশি মনে হচ্ছে। একটা ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। বড়দেরই হাঁসফাঁস অবস্থা তাহলে ছোট ছোট বাচ্চাদের কী অবস্থা হচ্ছে বলেন।’
শহরের চারুবাবুর মোড় এলাকার বাসিন্দা লাজু ইসলাম বলেন, তুলনামূলকভাবে এবার লোডশেডিং কম ছিল। কিন্তু কয়েক দিন ধরে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে। গত রাতেই দুবার বিদ্যুৎ গেছে। অসহনীয় ভ্যাপসা গরমে খুব কষ্ট হচ্ছে। বাচ্চারা ঠিকমতো ঘুমাতে পারছে না। মশারি দিয়ে ঘুমালে ঘেমে যাচ্ছে। আবার মশারি না টাঙালে শুরু হচ্ছে মশার যন্ত্রণা।
বিদ্যুতের ঘাটতির কথা স্বীকার করে দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুতের উপমহাব্যবস্থাপক (কারিগরি) সীমা রানী কুন্ডু বলেন, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম পাওয়া যাচ্ছে। গত রাতে যেখানে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১২০ মেগাওয়াট, সেখানে সরবরাহ পাওয়া গেছে ৭৫ মেগাওয়াট। আজ (বুধবার) বিকেল চারটায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৯৪ মেগাওয়াট সরবরাহ পাওয়া গেছে ৭৮ মেগাওয়াট। প্রয়োজনের তুলনায় ৪০-৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে।
একই কথা বলছেন দিনাজপুর নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই-২–এর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব। তিনি বলেন, বিদ্যুতের ঘাটতি খুব বেশি ছিল না। কয়েক দিন থেকে সরবরাহ কমেছে। বর্তমানে গড়ে ৩৩ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। সেখানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ১৮-২০ মেগাওয়াট।