জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের রংপুরের সেনপাড়ায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। রোববার দুপুরে
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের রংপুরের সেনপাড়ায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। রোববার দুপুরে

আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না: জি এম কাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার একটি বিশেষ দলকে নির্বাচনে সুযোগ-সুবিধা দিতে কাজ করছে। এ কারণে এখন পর্যন্ত ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত হয়নি। জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও সমর্থকদের ভোটের মাঠে এখনো নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে।

আজ রোববার দুপুরে রংপুর নগরের সেনপাড়ায় নিজ বাসভবন স্কাই ভিউতে সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেন জি এম কাদের। এনসিপি ও জামায়াতকে ইঙ্গিত করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি বলতে চাই, বর্তমান সরকার এবং সরকারের যাঁরা অভিভাবক, তাঁরা যে সরকার চালাচ্ছেন এখানে নির্মমতা আমরা দেখতে পাচ্ছি। পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করে বিভিন্নভাবে তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যা করা হচ্ছে। বিভিন্নভাবে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে।’

জি এম কাদের এ সময় কারাবন্দী নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলার সভাপতি জুয়েল হাসানকে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ার ঘটনা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের একটি বিরাট অংশকে ভোটের মাঠের বাইরে রেখে নির্বাচন কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না। যেমনটি অতীতে বিএনপিকে ভোটের মাঠের বাইরে রেখে করা হয়েছিল, ঠিক তেমনি এখনো করা হচ্ছে। তাহলে পরিবর্তন হলো কোথায়?’

গণভোটের বিষয়ে জাতীয় পার্টির চেয়্যারম্যান বলেন, ‘সরকারের তরফ থেকে সম্পূর্ণ সংবিধানের বাইরে গিয়ে ‎হ্যাঁ ভোট দেওয়ার জন্য জনগণকে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার জনগণের হ্যাঁ ভোটের ম্যান্ডেট নিয়ে সংস্কারের নামে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখবে। তাদের সাজানো বিষয়গুলোকে পাস করাতে সংসদকে নির্দেশ দেবে। তাই দেশকে বাঁচাতে না–এর পক্ষে মত দিয়েছে জাতীয় পার্টি।’

এবারের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির পক্ষে মানুষের অভূতপূর্ব সারা মিলছে দাবি করেন দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি বলেন, ‘যেসব জায়গায় বিভিন্নভাবে আওয়ামী লীগাররা জোর করে আমাদের হারিয়ে দিয়েছিল, নানা অত্যাচার–অনাচার করা হয়েছিল, সেখান থেকে কিন্তু আমাদের লোকেরা আবার দাঁড়িয়েছে। একটা সত্যিকারের রাজনীতি যেটা জনমুখী রাজনীতি, জনগণের পক্ষের রাজনীতি, যেই রাজনীতি জনগণ পছন্দ করছে এবং বুঝতে পারছে, সেই রাজনীতির দিকে আমরা আছি। আমাদের সমর্থকেরা ও আমাদের নেতা–কর্মীরা সেই কারণে অনেক বেশি উজ্জীবিত। আমরা খুবই আশাবাদী।’

শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি ভোটে থাকবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জি এম কাদের বলেন, ‘এটা অবস্থার ওপর নির্ভর করবে। আমরা ভোটে থাকার জন্য চেষ্টা করব। এখন যদি আমাদের ধরে ধরে জেলে ভরা হয়, পথেঘাটে গুলি করে মারা হয়, আমাদের কর্মীদের যদি হ্যারাস করা হয়, আমাদের ভোটারদের যদি মেরে ফেলা হয়— বাড়িতে গিয়ে, কোর্টে গিয়ে, বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, তখন আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জি এম কাদেরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির কো–চেয়ারম্যান রংপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসিরসহ অন্য নেতারা।

তিন দিনের সফরে নিজ সংসদীয় আসন রংপুর–৩–এ নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শেষে আজ রোববার বিকেলে ঢাকায় ফিরে যান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।