প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে মারামারি। মঙ্গলবার দুপুরে আড়াইহাজারের মোল্লারচর এলাকায়
প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে মারামারি। মঙ্গলবার দুপুরে আড়াইহাজারের মোল্লারচর এলাকায়

আড়াইহাজারে জামায়াতের নারী কর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণায় জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার গোপালদী পৌরসভার মোল্লারচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর বিকেলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি রাতে বিক্ষোভ করেছেন জামায়াতের নেতা-কর্মীরা।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন বলেন, প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। সেখান থেকে রাস্তার ওপর বাগ্‌বিতণ্ডা ও মারামারির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

আড়াইহাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ইলিয়াস মোল্লার অভিযোগ, আজ দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মোল্লারচরে তাঁদের নারী কর্মীদের প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়। খবর পেয়ে জামায়াতের প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকেরা সেখানে গেলে স্থানীয় বিএনপির কর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা করেন। এতে তাঁদের অন্তত ১০ জন আহত হন।

ইলিয়াস মোল্লা বলেন, ‘প্রচারণার সময় আমাদের নারী কর্মীদের “জান্নাতের টিকিট” বিক্রি করতে এসেছে বলে কটূক্তি করা হয়। তাঁদের নেকাব খুলে প্রচারণা চালাতে বলেন। সেখানে আমার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আজিজুল হকের স্ত্রীও ছিলেন। এ নিয়ে আমরা যখন কথা বলতে যাই, তখন বিএনপির কর্মীরা বাঁশ হাতে আমাদের ওপর হামলা করেন।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের প্রার্থীর ব্যানারের সঙ্গে জামায়াতের ব্যানার স্থাপনকে কেন্দ্র করে জামায়াতের সমর্থকদের সঙ্গে কথা–কাটাকাটি হয়। হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। ছোট বিষয়টিকে বড় করতে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে জামায়াতের প্রার্থী।’

এদিকে ঘটনার পর বিকেলে ইলিয়াস মোল্লার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আজিজুল হক সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি আহত ১০ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মধ্যে জামায়াতের রুকন (সদস্য) মুফতি মাহমুদ আব্বাসী, ইসলামী ছাত্রশিবিরের গোপালদী পৌরসভার সভাপতি মেহেদী হাসান ও শিবিরের কর্মী শাফিল আহমেদ আছেন।

এ ছাড়া ঘটনার প্রতিবাদে রাত আটটার দিকে আড়াইহাজার উপজেলা পরিষদ এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে আড়াইহাজার পৌরসভা জামায়াতে ইসলামী।

জানতে চাইলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাস্থলে এসিল্যান্ড ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ ফোর্স নিয়ে গিয়েছিলেন। এ বিষয়ে জামায়াতের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’