বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। সরকারি পাতারহাট আর সি কলেজ মাঠ, মেহেন্দিগঞ্জ, ৬ ফেব্রুয়ারি
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। সরকারি পাতারহাট আর সি কলেজ মাঠ, মেহেন্দিগঞ্জ, ৬ ফেব্রুয়ারি

বরিশালে জামায়াতের আমির

যারা নিজের দল সামলাতে পারে না, তারা দেশও সামলাতে পারবে না

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘৫৪ বছরে যাদের দেখেছি, তাদের আমলনামা আমাদের সামনে আছে। আবার ৫ আগস্ট থেকে ১৭ মাস যাদের দেখেছি, তাদের আমলনামাও আমাদের সামনে আছে। সুতরাং যাদের আমলনামা আমরা ভালোবাসব, তাদেরই আমরা ভোট দেব। যারা নিজের দল সামলাতে পারে না, তারা দেশও সামলাতে পারবে না। যারা নিজের দল সামলাতে পারে, তারাই ইনশা আল্লাহ দেশ সামলাতে পারবে।’

আজ শুক্রবার সকালে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার আর সি কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা নিজের দলটাকে পাহারা দিয়েছি। এত দিন পাহারাদারি করেছি দলকে, এখন আপনারা মেহেরবানি করে সুযোগ দিলে আমরা দেশের ১৮ কোটি মানুষের চৌকিদারি করতে চাই। তাদের জীবন, সম্পদ ও ইজ্জতের পাহারাদার হতে চাই। সেই সুযোগ আপনারা যদি দেন, আপনাদের আস্থার প্রতিদান দেওয়া আমাদের জন্য ওয়াজিব। আমরা জান–প্রাণ দিয়ে সেটার চেষ্টা চালিয়ে যাব।’

ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরবেন উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা দুর্নীতিবাজদের গলা চেপে ধরব। দুর্নীতিবাজদের মুখের ভেতর হাত ঢুকিয়ে দিয়ে পেটের ভেতর থেকে সব টাকা ফেরত আনব। দেশের অনেক টাকা পাচার হয়েছে, সেই টাকা ফেরত আনতে হবে। সব টাকা ফেরত আনার লড়াই হবে চূড়ান্ত লড়াই।’ তিনি বলেন, ‘সবার সমান অধিকার নয়, আমরা ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করব। কারও সঙ্গে অন্যায়–অবিচার করা হবে না। প্রত্যেকে তাঁর প্রয়োজন ও চাহিদা অনুযায়ী সাহায্য–সহযোগিতা পাবেন।’

নারীদের বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘জীবন দিতে রাজি আছি, মায়ের ইজ্জত দেব না। নারী জাতি মায়ের জাতি। আমরা প্রত্যেকেই মায়ের সন্তান। ইসলাম মায়ের জাতিকে সম্মানিত স্থানে রেখেছে। নারীদের স্বয়ং আল্লাহ সম্মানিত করেছেন। আমরা সবাই নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মান দেব।’ তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে বেকার ভাতা দেব না। আমরা সবার হাতে কাজ তুলে দেব। বেকার ভাতা দিয়ে কাউকে অপমান করব না।’

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা গোলামি চাই না। আমরা আজাদি চাই। তাই আজাদির জন্য গণভোটে হ্যাঁ–কে জয়ী করব।’

মেহেন্দীগঞ্জের ভৌগোলিক অবস্থান ও উন্নয়ন বঞ্চনা নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘মেহেন্দীগঞ্জ ভোলা নদীকেন্দ্রিক এলাকা। এসব জায়গাও বাংলাদেশের অংশ। এসব অবহেলিত জায়গাকে প্রাধান্য দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প শুরু হবে। নদী আমাদের জন্য অভিশাপ নয়, নদী সম্পদ। নদী সংস্কার করা প্রয়োজন।’

মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বরিশাল–৪ (মেহেন্দীগঞ্জ ও হিজলা) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার। অনুষ্ঠান শেষে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বরিশাল–১, ২, ৩, ৪ ও ৬ আসনের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন জামায়াতের আমির। তিনি তাঁদের বিজয়ী করার জন্য বরিশালবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

‘১৩ তারিখ নতুন সূর্য উদিত হবে’

মেহেন্দীগঞ্জে জনসভার পর দুপুর ১২টায় পটুয়াখালীর বাউফলে জনসভায় যোগ দেন জামায়াতের আমির। পটুয়াখালী–২ (বাউফল) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদের পক্ষে স্থানীয় পাবলিক মাঠে এ জনসভার আয়োজন করা হয়।

জনসভায় শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিগত সব সরকার আমাদের দুর্নীতি, মামলাবাজি, দখলদারি, ফ্যাসিবাদ ও বিচারহীনতা উপহার দিয়েছে। আমরা তা পাল্টে দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। ১২ তারিখের নির্বাচনে মহান রাব্বুল আলামিন যদি আমাদের সুযোগ দেন, তাহলে আমরা নতুন বাংলাদেশ উপহার দিতে চাই। ১৩ তারিখ নতুন সূর্য উদিত হবে, ইনশা আল্লাহ।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা দখলবাজি করি না, কাউকে করতেও দেব না। আমরা চাঁদাবাজি করি না, কাউকে করতেও দেব না। আমরা দুর্নীতি করি না, কাউকে করতেও দেব না। এই বাংলাদেশে আর ব্যাংক লুট করতে দেওয়া হবে না, শেয়ারবাজারে ডাকাতি করতে দেওয়া হবে না।’ তিনি বলেন, ‘মামলা–বাণিজ্যকে আমরা ঘৃণা করি। আমরা এটাকে প্রশ্রয় দিই না। অনেকে আছেন, যাঁরা মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন ধ্বংস করে দেন। যাঁরা মিথ্যা মামলা–বাণিজ্য করবেন, তাঁদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।’

বাউফল উপজেলা জামায়াতের আমির ইসাহাক মিয়ার সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি সাদিক কায়েম, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ সাংবাদিক মেহেদি হাসানের মা মাহমুদা বেগম। এ ছাড়া জামায়াত ও ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতারা বক্তব্য দেন।