সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল সোমবার রাত থেকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়াতে থাকে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আজিজুর রহমান বলেন, ভিডিওটি ঢাকার একটি বাসার সিসিটিভি ফুটেজ থেকে ছড়িয়ে পড়েছে বলে তাঁদের ধারণা। তবে তাঁর এই দাবি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আজ মঙ্গলবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, পরে এ বিষয়ে বক্তব্য দেবেন।
জামায়াতে ইসলামীর এই এমপি আজ দুপুর ১২টা ১ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে ভাইরাল ভিডিওর বিষয়ে একটি ব্যাখ্যা দেন।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে এমপি লিখেছেন, মাসুম বিল্লাহর অফিসে অবস্থানকালে তাঁর গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যান। পরে তিনি ৫–৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে তাঁদের কক্ষে ঢুকেন। তাঁদের জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করেন।
সেখানে গাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন, ১৩ জুলাই তিনি তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়াম বেগমকে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে যান। সেখানে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিস। সেখানে তাঁরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।
মাসুম বিল্লাহর অফিসে অবস্থানকালে তাঁর গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যান। পরে তিনি ৫–৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে তাঁদের কক্ষে ঢুকেন। তাঁদের জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করেন বলে এমপি ফেসবুকে লিখেছেন।
এমপি গাজী নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘আমি চলাচলের জন্য যে ভাড়া গাড়িটি ব্যবহার করি, ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে পরবর্তী সময়ে সেটিও আটকে রেখে দফায় দফায় আমাদের কাছে কয়েক লাখ টাকা দাবি করা হয়। আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।’ তিনি দাবি করেন, তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এই ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
জামায়াতের এমপির ভাষায়, ‘পরবর্তী সময়ে হিংসা ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ওবায়দুল্লাহ আমাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।’ এই ভিডিওকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা হিসেবে প্রচার করার বিষয়টি মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তাঁর দাবি।
এমপি দাবি করেন, তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এই ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
গাজী নজরুল ইসলাম ফেসবুকের ওই লেখায় উল্লেখ করেছেন, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং তাঁর প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে মাসুম বিল্লাহর বাসভবনে মরিয়াম বেগমের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। যাঁরা তাঁর সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নৈতিক চরিত্র ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এই ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।