প্রধান দুই রাজনৈতিক ধারার বাইরে গিয়ে এবার জয়পুরহাট-১ (সদর ও পাঁচবিবি) আসনের ভোটাররা দিয়েছেন ভিন্ন রায়। স্বাধীনতার পর প্রথমবার জেলার কোনো সংসদীয় আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আসনটিতে বিজয়ী হয়েছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ফজলুর রহমান।
ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন জেলা জামায়াতের আমির হিসেবে সংগঠন পরিচালনা করে আসছেন। তৃণমূল পর্যায়ে ধারাবাহিক সাংগঠনিক কার্যক্রম, নিয়মিত গণসংযোগ ও স্থানীয় বিভিন্ন ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা তাঁর পক্ষে জনমত তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।
জয়পুরহাট-১ আসনে ফজলুর রহমানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে ছিল টানটান উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত বেসরকারি ফলাফলে ফজলুর রহমান এগিয়ে থেকে বিজয় নিশ্চিত করেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফল অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ফজলুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ১৯২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মাসুদ রানা ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৯ ভোট। ৯ হাজার ৮৮৩ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন ফজলুর রহমান।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতার পর এবারই প্রথম জয়পুরহাটের কোনো আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। অতীতে কয়েকটি নির্বাচনে দলটি অংশ নিলেও জয় পায়নি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী আব্বাস আলী খান ভোটে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন।
১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জামায়াতের আব্বাস আলী খানও ভোটে তৃতীয় স্থান লাভ করেন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর ও ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন না। ২০১৪ সালের পর থেকে জয়পুরহাটের দুটি আসনই বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের দখলে যায়।
বিষয়টি স্মরণ করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) জয়পুরহাট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন বলেন, জয়পুরহাটের দুটি আসনে আগে কখনো জামায়াতে ইসলামী জয় পায়নি। এবার জয়পুরহাট-১ আসনে দলটি প্রথমবারের মতো জয় পেয়েছে।
এবারের নির্বাচনে নিজের বিজয়কে ব্যক্তিগত কোনো অর্জন নয় জানিয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান বলেন, এটি জয়পুরহাট ও পাঁচবিবির মানুষের বিজয়। সবার মতামত ও সহযোগিতা নিয়ে তিনি এলাকার উন্নয়ন এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে কাজ করতে চান।
বিএনপির পরাজিত প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান ফেসবুকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। পাশাপাশি দলীয় কিছু নেতার ভূমিকার সমালোচনা করেছেন।