বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের বাসভবনের সামনে একদল শিক্ষার্থী অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। গতকাল শুক্রবার রাতে
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের বাসভবনের সামনে একদল শিক্ষার্থী অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। গতকাল শুক্রবার রাতে

জাহাঙ্গীরনগরে পালাগানের আসরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে হট্টগোল

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে হিম উৎসবে পালাগানের একটি আসরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছবি চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের বাসভবনের সামনে একদল শিক্ষার্থী অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছবি চত্বরে পালাগানের মঞ্চে গান করতে ওঠেন শিল্পী এছাক সরকার। গানের একপর্যায়ে তাঁর একটি বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফজলে রাব্বি। তিনি মঞ্চে উঠে মাইক নিয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় ঘটনাস্থলে হট্টগোল শুরু হয়। পরে ফজলে রাব্বিকে শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে সরিয়ে নেন এবং আয়োজক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

এ ঘটনার পরও অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণভাবে চলছিল। তবে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ শহীদ মিনারের পাশে গিয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন এবং ধর্ম অবমাননার অভিযোগে নানা স্লোগান দেন। দিবাগত রাত দুইটার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন একদল শিক্ষার্থী। উপাচার্য তাঁদের আশ্বস্ত করেন যে প্রক্টরিয়াল টিমের প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারপর শিক্ষার্থীরা চলে যান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘সুরা নাস নিয়ে শুরুর দিকে একটি সমস্যা হয়েছিল। সেই সূত্র ধরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানছে—এমন অভিযোগ তুলে যে ছেলে এটা নিয়ে ওখানে (মঞ্চে) কথা বলতে গিয়েছিল, তাকে আয়োজকেরা বের করে দিছে। পরে কিছু সাধারণ ছাত্র সেটা নিয়ে উত্তেজিত হয়ে পড়েছিল। তাদের আমরা শান্ত করেছি। এটা আসলে ছাত্ররা তাদের নৈতিকতার জায়গায় থেকে বিষয়টি প্রটেস্ট করেছে। তাদের শান্ত করেছি, চলে গেছে। তবে আয়োজকদের অনেকেই বলছে, এই ঘটনার পর শিল্পী সরি বলেছেন।’