কুড়িগ্রামের রৌমারীতে দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের হাজিরহাট বাজার এলাকা। গতকাল বুধবার তোলা
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের হাজিরহাট বাজার এলাকা। গতকাল বুধবার তোলা

কবরস্থান নিয়ে বিরোধের জেরে শতাধিক পরিবার ‘একঘরে’

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় শতাধিক পরিবারকে সামাজিকভাবে ‘একঘরে’ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের দাবি, মাইকিং করে ওই পরিবারগুলোর কাছে কোনো দোকানদারকে পণ্য বিক্রি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এটি অমান্য করলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার ঘোষণাও দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ১১ জুলাই উপজেলার হাজিরহাট এলাকার ভুক্তভোগী একটি পরিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে ও রৌমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বলে দাবি করেছে।

তবে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী। তিনি জানান, তিনি বণিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানার চেষ্টা করছেন।

ভুক্তভোগী একাধিক পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে হাজিরহাট ও বালুরচর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে একটি কবরস্থানকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে এ নিয়ে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। সম্প্রতি ওই বিরোধের জেরে স্থানীয়ভাবে একটি বৈঠক হয়। সেখানে বিরোধে জড়িত বলে অভিযোগ ওঠা একটি গোষ্ঠীর শতাধিক পরিবারকে সামাজিকভাবে বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রায় দুই হাজার মানুষের উপস্থিতিতে গ্রাম্য সালিসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে লেনদেন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। হাটের বণিক সমিতির সভাপতি হিসেবে এ নিষেধাজ্ঞা আমি দিতে পারি না, আবার এলাকাবাসীর সম্মতিতে দিতেও পারি।
আবু সাঈদ, হাজিরহাট বাজার বণিক সমিতিটির সভাপতি

অভিযোগ আছে, বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাইকিং করে ঘোষণা দেওয়া হয়, ওই পরিবারগুলোর সদস্যদের সঙ্গে কেউ মেলামেশা করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বণিক সমিতির লোকজনকে ডেকে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রৌমারীর ইউএনও আলাউদ্দিন।

এক ভুক্তভোগী আক্তার হোসেন বলেন, ‘আমরা কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি। বাড়ির বাইরে বের হলে লাঠিসোঁটা নিয়ে লোকজন ভয়ভীতি দেখায়।’

সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর কাছে পণ্য বিক্রি না করার কথা স্বীকার করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক দোকানদার। তিনি বলেন, হাজিরহাট হাটের ইজারাদার ও বাজার বণিক সমিতির নেতাদের নির্দেশ অমান্য করলে জরিমানা গুনতে হবে—এমন আশঙ্কায় তাঁরা নির্দেশ মেনে চলছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাজার বণিক সমিতিটির সভাপতি আবু সাঈদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রায় দুই হাজার মানুষের উপস্থিতিতে গ্রাম্য সালিসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে লেনদেন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। হাটের বণিক সমিতির সভাপতি হিসেবে এ নিষেধাজ্ঞা আমি দিতে পারি না, আবার এলাকাবাসীর সম্মতিতে দিতেও পারি।’

বণিক সমিতির লোকজনকে ডেকে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রৌমারীর ইউএনও আলাউদ্দিন।