চাকরির আবেদনের ৭ বছর পর এল পরীক্ষার প্রবেশপত্র

প্রতীকী ছবি

খুলনা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কার্যালয়ের সিপাই পদে আবেদন করেছিলেন সাতক্ষীরার মামুন আবদুল্লাহ (প্রকৃত নাম নয়)। সেটি ২০১৫ সালের প্রথম দিকের কথা। ৭ বছরেরও বেশি সময় পর চলতি মাসের ১৮ জুলাই ওই পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রবেশপত্র হাতে পেয়েছেন তিনি। প্রবেশপত্র অনুযায়ী ২৭ জুলাই তাঁর শারীরিক সক্ষমতা (ফিটনেস) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন মামুন আবদুল্লাহ। সাত বছর আগের আবেদন করা নিয়োগ পরীক্ষার প্রবেশপত্র পেয়ে বিস্মিত হয়েছেন তিনি। ওই আবেদনের কথা ভুলেই গিয়েছিলেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যখন আবেদন করেছিলাম, তখন বয়স ৩০ পেরিয়ে গিয়েছিল। এখন বয়স ৩৮–এর কাছাকাছি। তখনকার ফিটনেস আর এখনকার ফিটনেস তো এক হবে না। তারপরও যেহেতু পরীক্ষার জন্য ডেকেছে, তাই ওই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করব। এ বয়সে যদি একটি সরকারি চাকরি হয়!’

চলতি বছরের মে মাসের শেষের দিকে ওই পদসহ আরও কয়েকটি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল খুলনা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কার্যালয়। ২০১৫ সালের আবেদনটি ছিল হাতে লেখা। তবে সম্প্রতি যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে, সেটিতে আবেদন করতে হয়েছে অনলাইনে। ২০১৫ সাল ও সম্প্রতি আবেদন করা চালক ও সিপাই পদের নিয়োগে শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষা একই দিন অনুষ্ঠিত হবে।

খুলনা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার পর ওই কার্যালয়ে অস্থায়ীভাবে (নো ওয়ার্ক, নো পে) কর্মরত ব্যক্তিরা আদালতে মামলা করেন। পরে আদালত ওই নিয়োগপ্রক্রিয়া স্থগিত করার নির্দেশ দেন। এ কারণে ওই সময় নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করতে পারেনি কার্যালয়টি। মামলার কারণে ওই–সংক্রান্ত সব নিয়োগই আটকে ছিল। গত বছর ওই মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এরপর আবার নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। ২০১৫ সালে সিপাই পদে হাজার হাজার আবেদনের মধ্য থেকে ছয় হাজারের মতো আবেদন বাছাই করে রেখেছিল নিয়োগ কমিটি। আর চলতি বছরের বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করেছেন ১৫ হাজারেরও বেশি।

খুলনা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি মো. তাসনিমুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, আগে যাঁরা আবেদন করেছিলেন, বর্তমান নিয়োগের সময়ও তাঁদের পরীক্ষার প্রবেশপত্র পাঠানো হয়েছে। যেহেতু তাঁরা ওই সময় আবেদন করেছিলেন, তাই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অধিকার তাঁদের আছে। কেউ ভালো করলে বয়স না থাকার পরও তাঁর চাকরি হয়ে যাবে। ২০১৫ সালের আবেদনকারীদের পরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাক বিভাগের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। আর সম্প্রতি আবেদন করা প্রার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে প্রবেশপত্র তুলতে পারছেন।