ঋণ নিয়ে কেনা অটোরিকশাটিও ছিনিয়ে নিল ছিনতাইকারীরা, পরিবারের দুশ্চিন্তা

বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে একটি অটোরিকশা কিনেছিলেন রকি হোসেন (৩০)। ওই অটোরিকশার আয়ে সংসার চলত তাঁর। পাশাপাশি সপ্তাহে পাঁচ হাজার টাকার কিস্তি পরিশোধ করতেন। কিন্তু রকিকে রক্তাক্ত করে শেষ সম্বল অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নিয়েছে যাত্রীবেশী ছিনতাইকারীরা। মুমূর্ষু অবস্থায় রকিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ অবস্থায় সংসারের খরচ, কিস্তির টাকা ও রকির চিকিৎসা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্বজনেরা।

গতকাল শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার কুচিয়ামারি সেতু এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রকি নলডাঙ্গা উপজেলার হরিদাখলসি গ্রামের আসলাম হোসেনের ছেলে। এ ঘটনায় নলডাঙ্গা থানায় একটি মামলা হয়েছে।

রকির স্ত্রী হায়াতুন বেগম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের জমিজমা নেই। আয়-উপার্জনের অন্য কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সম্প্রতি তাঁরা বেসরকারি সংস্থা থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিনেছিলেন। তাঁর স্বামী নাটোর-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে যাত্রী পরিবহন করতেন। ওই আয় থেকে সপ্তাহে পাঁচ হাজার টাকা কিস্তি পরিশোধ করা হতো। বাকি টাকায় সংসার চলত।

হায়াতুন বেগম আরও বলেন, প্রতিদিনের মতো গতকাল রাতে নাটোর থেকে বীরকুৎসা যাওয়ার জন্য তাঁর অটোরিকশায় ওঠেন পাঁচজন অপরিচিত যাত্রী। রাত সাড়ে আটটার দিকে অটোরিকশাটি কুচিয়ামারি সেতু এলাকায় পৌঁছালে যাত্রীবেশী ছিনতাইকারীরা তাঁকে বেঁধে ফেলে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে রক্তাক্ত করে। পরে তাঁর অটোরিকশা ও ফোন ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়। পথচারীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে মুমূর্ষু অবস্থায় সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।

হায়াতুন বেগম দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, ‘এখন আমি স্বামীর চিকিৎসা করাব কী দিয়ে? কীভাবে কিস্তি দেব? আর ছেলেমেয়েদের খাওয়াবই–বা কী?’

এ ঘটনায় রকি হোসেনের স্ত্রী হায়াতুন বেগম বাদী হয়ে আজ রোববার দুপুরে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে নলডাঙ্গা থানায় একটি মামলা করেছেন। তবে মামলায় কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। ছিনিয়ে নেওয়া অটোরিকশাটিও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঘটনার পর থেকে ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করতে ও অটোরিকশাটি উদ্ধার করতে পুলিশের অভিযান চলছে। তবে দুপুর পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত আছে।