মো. শামীম আহসান
মো. শামীম আহসান

ডাকসু নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য

বরগুনার সেই জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

বরগুনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর হয়ে নির্বাচনী প্রচারে নেমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা নেতার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। পাথরঘাটা সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাদুড়তলা এলাকার আফরোজ নামের এক ব্যক্তি সোমবার দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার পক্ষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সজল চন্দ্র শীল লিখিত অভিযোগের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। অভিযুক্ত মো. শামীম আহসান বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, বরগুনা-২ সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সুলতান আহমেদের নির্বাচনী কার্যক্রমে শামীম আহসান নিয়মিতভাবে বিভিন্ন পথসভা ও জনসভায় অংশগ্রহণ করে আসছেন। শামীম আহসান এমপিওভুক্ত কিরণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ নির্বাচনী বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত শনিবার রাতে পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের কাটাখালী এলাকায় জামায়াতের প্রার্থীর নির্বাচনী জনসভায় শামীম আহসান উপস্থিত থেকে উচ্ছৃঙ্খল, বিদ্বেষমূলক ও মানহানিকর বক্তব্য দেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে ডাকসু সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ডাকসু একসময় মাদকের আড্ডা ও বেশ্যাখানা ছিল, সেটা ইসলামী ছাত্রশিবির পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে।’ এ ধরনের বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ সারা বাংলাদেশের মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েছে।

শামীম এহসানের এ ধরনের বক্তব্য সারা বাংলাদেশে নির্বাচনী পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তুলেছে এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ বিনষ্ট করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এতে আরও বলা হয়, শামীম আহসান নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ১৫ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ করেছেন। নির্বাচনী জনসভায় এমপিওভুক্ত প্রধান শিক্ষক হয়েও অংশগ্রহণ করে ২০-এর ‘খ’ বিধি অনুযায়ীও দণ্ডনীয় অপরাধ করেছেন।
অভিযোগে দাবি করা হয়, বরগুনা-২ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী সুলতান আহমেদের প্রার্থিতা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায় বাতিল করা হোক। এতে নির্বাচনের সুষ্ঠুতা, নিরপেক্ষতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা পাবে।

এ বিষয় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘অভিযোগের হার্ড কপি এখনো পাইনি। এ নিয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। ঢাকসু নিয়ে মন্তব্য করা ব্যক্তি যেহেতু প্রার্থী না এবং গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদধারী ব্যক্তি না, তাই আমাদের কোনো ম্যাজিস্ট্রেট সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তাই বিষয়টি নিয়ে আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে পারছি না। কোনো সমস্যা নেই। আবেদনটি পেলে আমরা সিভিল জজকে সরাসরি পাঠিয়ে দেব ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। আর পুলিশ বিভাগ বাদী হয়ে মামলা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।’

এদিকে ডাকসু নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য ইতিমধ্যে দুঃখ প্রকাশ করেছেন শামীম আহসান। গতকাল রোববার সন্ধ্যার পর ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি এই দুঃখ প্রকাশ করেন।