রংপুরে সুধী সমাবেশে যোগদানের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। শুক্রবার বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে
রংপুরে সুধী সমাবেশে যোগদানের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। শুক্রবার বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কেউ আলোচনা করেনি: জামায়াতের আমির

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কেউ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আলোচনা করেনি বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। শুক্রবার বিকেলে রংপুরে সুধী সমাবেশে যোগদানের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে জামায়াতসহ সব দল জানত; কিন্তু তারা কোনো বিরোধিতা করেনি বলে সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের দুজন উপদেষ্টা মন্তব্য করেছেন। এ বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান কী জানতে চাইলে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই প্রশ্ন আগে এসেছে। আগে যখন এসেছিল, তখন আমি আমার নিজের একটা বক্তব্য দিয়েছি যে সরকারের পক্ষ থেকে কেউ আমাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা করেনি। এখনো আমি অত্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে বলছি, তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো একজন মানুষ এই বিষয়টি নিয়ে একটা শব্দও করেনি, উচ্চারণ করেনি। এটাই হচ্ছে আমাদের পজিশন।’

গণভোটের পক্ষে ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে সরকারি দল অপমান ও অগ্রাহ্য করেছে বলে জানান বিরোধী দলের নেতা। তিনি বলেন, ‘আমরা কথা দিয়েছি, এই কর্মসূচি আমরা বাদ দেব না। পরিত্যক্ত ঘোষণা করব না। সংসদের ভেতরেও লড়াই চালিয়ে যাব, বাইরেও লড়াই চালিয়ে যাব। গণভোটের রায় ইনশা আল্লাহ একদিন এই বাংলাদেশে বাস্তবায়ন হবে। গণভোটের রায় অপমানে-অবহেলায় পরিত্যক্ত হবে না, ইনশা আল্লাহ।’

জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘এই রাষ্ট্রের রূপান্তর চায় জনগণ, বিশেষ করে আমাদের যুব সমাজ চায়। কিন্তু সেখানে রূপান্তরের জন্য যে সমস্ত অর্ডিন্যান্স অন্তর্বর্তী সরকার জারি করেছিল, বর্তমান সরকারি দল সব বাদ দিয়েছে। এগুলো তারা আলোচনার টেবিলে আনেনি। আমাদের আলোচনার সুযোগ না দেওয়ায় আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি। কিন্তু আমরা কারও জন্য সংসদ ছেড়ে দিইনি।’

অনেক জায়গায় সরকারি দল উল্টাপাল্টা করে ফেলেছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘তারা গণভোটকে অগ্রাহ্য করেছে। তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তন করে অত্যন্ত দুর্বল ও বিতর্কিত একজন মানুষকে সেই সম্মানজনক জায়গায় বসিয়েছে। ৪২টি জেলায় তারা প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে বসেছে। একটা ডেমোক্রেটিক প্রসেসে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, এ সময়ে কেন প্রশাসক নিয়োগ দিতে হবে?’

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে উত্তরাঞ্চলকে কৃষির রাজধানী করা হবে বলে জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, ‘আমরা পদ্মা ব্যারেজের এই উদ্যোগকে অভিনন্দন জানাই। কিন্তু এটা তিস্তার বিনিময় নয়। তিস্তার জায়গায় অবশ্যই তার পাওনা দিতে হবে। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেই হবে।’

পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মহানগর জামায়াত আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শফিকুর রহমান। মহানগর জামায়াতের আমির এ টি এম আজম খান এতে সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্যের শেষে রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে আজম খানকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেন শফিকুর রহমান। এর আগে আজ সকাল ৯টা দিকে এক দিনের সফরে রংপুরে আসেন জামায়াতের আমির। এরপর রংপুর নগরের মডেল কলেজ হলরুমে রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের উপজেলা ও থানা আমির সম্মেলনে যোগ দেন তিনি।