
দুপুর সাড়ে ১২টা। কর্ণফুলী নদীতে একে একে লাইটার জাহাজের কাগজপত্র যাচাই করছিলেন বন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফরিন। বন্দরের দিশারী-৬ নামের পাইলট জাহাজে চড়ে অভিযান পরিচালনা করছিলেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার সরেজমিন এ চিত্র দেখা যায়।
অভিযানে কর্ণফুলী নদীর সদরঘাটে নোঙর করে রাখা ‘এমভি আল আসওয়াদ-২’ জাহাজের পাশে ভেড়ানো হয় পাইলট জাহাজটি। এ সময় এমভি আল আসওয়াদ-২ জাহাজের মাস্টার নজরুল ইসলামের কাছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানতে চান, কত দিন ধরে জাহাজটি এখানে আছে? নজরুল ইসলাম ম্যাজিস্ট্রেটকে জানান, ‘জাহাজে গম নিয়ে ৩৪ দিন ধরে ভাসছি। আমদানিকারক খালাস করছে না। খালাস কবে জানি না।’
ম্যাজিস্ট্রেট অবাক হয়ে জানতে চান, কেন খালাস হচ্ছে না? জাহাজের মাস্টার জবাব দেন, ‘গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর সাগরে একটি বড় জাহাজ থেকে প্রায় ১ হাজার ৯০০ টন গম নিয়ে এখানে নোঙর করে আছি। তারা (আমদানিকারক) যখন বলবে, তখনই খালাস হবে।’
পাশে থাকা এমভি আল-ওয়াহাব নামের আরেকটি জাহাজেও একই চিত্র পান ম্যাজিস্ট্রেট। আল-ওয়াহাব জাহাজের সুকানি রবিউল হোসেন ম্যাজিস্ট্রেটকে বলেন, ‘সাগরে বড় জাহাজ থেকে ২ হাজার ৪০০ টন গম নিয়ে গত ৩১ ডিসেম্বর সদরঘাটে নোঙর করি। আমদানিকারক এখনো গম খালাস করেনি। আমদানিকারক কোনো ব্যবস্থা না নিলে আমাদের কিছুই করার নেই।’
খালাস না করে আটকে থাকা আল-ওয়াহাব জাহাজকে ১৫ জানুয়ারি ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছিলেন বন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তাৎক্ষণিকভাবে দুই জাহাজের মাস্টারকে সতর্ক করেন ম্যাজিস্ট্রেট। দ্রুত খালাসে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তাঁদের।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফরিন সাংবাদিকদের জানান, সাগরে বড় জাহাজ থেকে বোঝাই করার পর তিন দিনের বেশি অবস্থানের সুযোগ নেই। এখানে এক মাসের বেশি সময় ধরে তারা অবস্থান করছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো আমদানিকারক যেন দিনের পর দিন লাইটার জাহাজে পণ্য রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারেন, সে জন্য এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
অভিযানে অংশ নেওয়া বন্দরের উপপরিচালক (নিরাপত্তা) লে. কমান্ডার সৈয়দ সাজ্জাদুর রহমান বলেন, রোজার আগে কেউ যাতে লাইটার জাহাজে পণ্য মজুত করতে না পারেন, সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সে জন্য বন্দরের এই সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, দিনভর অভিযানে ৯টি লাইটার জাহাজকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।