নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুল হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ইসলামী আন্দোলনের নেতা–কর্মী ও এলাকাবাসী। আজ শুক্রবার মদনপুর এলাকায়
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুল হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ইসলামী আন্দোলনের নেতা–কর্মী ও এলাকাবাসী। আজ শুক্রবার মদনপুর এলাকায়

নারায়ণগঞ্জে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতাকে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের স্থানীয় নেতা মুজাহিদুল ইসলাম ওরফে বুলবুলকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে সালেহনগর এলাকায় তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনায় জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মুজাহিদুল হত্যার প্রতিবাদে আজ শুক্রবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মদনপুর এলাকায় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। প্রায় আধা ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ থাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে শেখ সিফাত নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত মুজাহিদুল বন্দরের শাহী মসজিদ ঠাকুরবাড়ী এলাকার মৃত রাজা মাস্টারের ছেলে। তিনি ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ, বন্দর থানা শাখার আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় করা মামলার বাদী ছিলেন।

নিহত ব্যক্তির স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন মুজাহিদুল ইসলাম আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে তাঁর মালিকানাধীন রিকশার গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। স্বজনেরা জানান, গ্যারেজ থেকে ১৮টি রিকশা লুট করা হয়।

একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মুজাহিদুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন বুলবুলকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট মুজাহিদুল বাদী হয়ে শেখ সিফাতসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় মামলা করেন। শেখ সিফাত ওই মামলার এজাহারভুক্ত ৬ নম্বর আসামি। স্বজনদের অভিযোগ, মামলা করার পর থেকেই সেটি তুলে নিতে মুজাহিদুলকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।

গতকাল রাত ১০টার দিকে সালেহনগর এলাকায় মুজাহিদুলকে একা পেয়ে কয়েকজন তাঁকে ঘিরে ধরেন। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মুজাহিদুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন বুলবুলকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মুজাহিদুলকে হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বন্দরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাতে স্থানীয় লোকজন ও ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন। তাঁরা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান।

একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত শেখ সিফাত ও তাঁর স্বজনদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এ ঘটনায় জড়িত শেখ সিফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
তারেক আল মেহেদী , অতিরিক্ত পুলিশ সুপার

আজ সকালে হত্যার প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মী ও স্থানীয় লোকজন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁরা মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিলে প্রায় আধা ঘণ্টা পর যান চলাচল শুরু হয়

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী প্রথম আলোকে বলেন, মুজাহিদুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক আধা ঘণ্টা অবরোধ করে রাখা হয়েছিল। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত শেখ সিফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও চলছে।