বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) যাচাইয়ে জাল সনদের প্রমাণ পাওয়ায় দেশের ১১৪ জন মাদ্রাসাশিক্ষকের এমপিও–সুবিধা বাতিল করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তাঁদের মধ্যে ৬০ জনই গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসায় কর্মরত ছিলেন। বিষয়টি এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
২৩ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, এনটিআরসিএর যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সনদ জাল প্রমাণিত হওয়ায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এমপিও–সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের এমপিও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার পাশাপাশি তাঁদের মাধ্যমে নেওয়া সরকারি অর্থ আদায় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলাও করা হবে।
প্রকাশিত তালিকা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এমপিও বাতিল হওয়া ১১৪ জন শিক্ষকের মধ্যে ৬০ জনই গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার কয়েকটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। একই উপজেলার এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল সনদের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আলোচনা–সমালোচনা চলছে। এ ছাড়া পাশের নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩৬ জন শিক্ষকের নামও তালিকায় রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এনটিআরসিএ–এর যাচাইয়ে সংশ্লিষ্টদের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জাল প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬–এর ১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাঁদের এমপিও বাতিল করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আইউবী বলেন, জাল সনদ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের বাড়ি কাপাসিয়ায়। তাঁরা ওলামা লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এ কারণেই কাপাসিয়ায় জাল সনদধারী শিক্ষকের সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। কাপাসিয়ার আশপাশের অন্য জেলারও বেশ কয়েকজন জাল সনদধারী শিক্ষক শনাক্ত হয়েছেন।
এর আগে কাপাসিয়ায় জাল সনদে চাকরি নেওয়ার ঘটনায় ১২ জন শিক্ষক শাস্তি পেয়েছিলেন বলে জানান গাজীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আল মামুন তালুকদার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই এমন অনিয়ম আছে। ঈদের পর অফিস খোলার পর বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখা হবে।