ডুয়েটে চলমান ভিসিবিরোধী আন্দোলন নিয়ে ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার চত্বরে সম্মেলন করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আজ সোমবার
ডুয়েটে চলমান ভিসিবিরোধী আন্দোলন নিয়ে ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার চত্বরে সম্মেলন করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আজ সোমবার

ডুয়েটে ভিসি নিয়োগ বাতিল না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি শিক্ষার্থীদের

গণতান্ত্রিক দাবিকে সংঘাতে রূপ দিয়ে শিক্ষার্থীদের রক্তাক্ত করা হলেও দাবি থেকে পিছপা হবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন ডুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, বাহিরের ভিসি নিয়োগের প্রজ্ঞাপন অবশ্যই বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি ডুয়েটে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকেই ভিসি নিয়োগ দিতে হবে। দাবি মানা না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।

ডুয়েটে চলমান ভিসিবিরোধী আন্দোলন নিয়ে আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার চত্বরে সংবাদ সম্মেলন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সেখানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আমানুল্লাহ। তিনি জানান, ভিসি নিয়োগ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবালের ডুয়েটের ভিসি হিসেবে নিয়োগ বাতিল, ডুয়েটের নিজস্ব শিক্ষককে ভিসি নিয়োগ এবং রোববারের সংঘর্ষে জড়িত সবার বিচার।

পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আমান উল্লাহ ও হাসানুর রহমান বলেন, ‘ডুয়েটে আগে থেকে কর্মরত একজন শিক্ষককে যথাযথ ক্রাইটেরিয়ার মধ্য দিয়েই ভিসি হিসেবে নিয়োগ দান করা হোক। আমরা আমাদের দাবিটি সুস্পষ্ট ও যৌক্তিক রাখার জন্য এটুকুতেই সীমাবদ্ধ রেখেছিলাম। শুধু তা-ই নয়, যাতে আমাদের দাবিটিকে কেউ ভুল না বোঝে বা কেউ কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা কিংবা স্বার্থ খুঁজে না পায়, সে জন্য আমরা আরও সুস্পষ্টভাবে বলেছিলাম—তিনি যেকোনো এডুকেশনাল ব্যাকগ্রাউন্ডের হোন, যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হোন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি যেকোনো রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী হোন, আমরা সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করব না। আমরা শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট করেও কারও নাম প্রস্তাব করব না। সরকার আমাদের শিক্ষকসমাজের সঙ্গে আলোচনা ও বিবেচনা করে যাঁকেই নিয়োগ প্রদান করবে, আমরা তা মেনে নেব।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, এ দাবিতে সব শিক্ষার্থী ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। দলমত–নির্বিশেষে সবাইকে ডুয়েটের এই যৌক্তিক দাবির পক্ষে একত্র হয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তা উপস্থাপনের আহ্বান জানানো হয়। শিক্ষার্থীরা বলেন, এক সপ্তাহ ধরে তাঁরা ক্যাম্পাসে এবং স্বল্প সময়ের জন্য ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৭ মে সকাল থেকে ক্যাম্পাসের মূল ফটকের ভেতরে অবস্থান কর্মসূচি চলছিল। সকালে ডুয়েট ছাত্রদল ও বাইরের ভাড়াটে টোকাইদের এনে তারা ডুয়েটের গেট ভেঙে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। এ সময় ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীরা তা প্রতিহত করার চেষ্টা করলে তাঁদের ওপর বাইরে থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় ছাত্রদল ও তাদের সহযোগী বহিরাগত টোকাইরা। এ সংঘর্ষে ১৮ জন শিক্ষার্থী আহত হন। তাঁদের মধ্যে ১২ জন গুরুতর আহত।

লিখিত বক্তব্যে তাঁরা আরও বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার রাষ্ট্রের নাগরিক এবং ডুয়েটের শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের বিনীত দাবি—আমাদের এই যৌক্তিক দাবি বিবেচনা করুন।’

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এক বিবৃতিতে অনাকাঙ্ক্ষিত ও সহিংস ঘটনায় গভীর দুঃখ, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে। শিক্ষক সমিতি বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানচর্চা ও গণতান্ত্রিক চর্চার পবিত্র স্থান। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি উপস্থাপন ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সংবিধানসম্মত। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বহিরাগতদের হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলন করে ডুয়েট শিক্ষক সমিতি। সমিতির সভাপতি অধ্যাপক খসরু মিয়া চলমান আন্দোলনের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে রেজোল্যুশনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত রয়েছে। সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে চলমান আন্দোলন প্রশমিত হতে পারে। তবে সরকার যাঁকে নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে, তাঁকে অমান্য করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে চলমান সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেন শিক্ষক সমিতির নেতারা।