দুর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ে গেছে বসতঘর। শনিবার সকালে টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গড়গোবিন্দপুর গ্রামের উখারিয়ারচালা এলাকায়
দুর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ে গেছে বসতঘর। শনিবার সকালে টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গড়গোবিন্দপুর গ্রামের উখারিয়ারচালা এলাকায়

বসতঘরের দরজায় শিকল লাগিয়ে আগুন, টিনের বেড়া কেটে বাঁচলেন দম্পতি

গভীর রাতে আগুনের তাপে ঘুম ভাঙে লাল মিয়া ও তাঁর স্ত্রী মোসাম্মৎ বেগমের। ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেও পারছিলেন না তাঁরা। বুঝতে পারেন বাইরে থেকে দরজায় শিকল লাগানো। একপর্যায়ে দা-বঁটি দিয়ে টিনের বেড়া কেটে বের হয়ে প্রাণে বাঁচেন ওই দম্পতি।

গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গড়গোবিন্দপুর উখারিয়াচালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। লাল মিয়া ওই এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাতের কোনো এক সময় লাল মিয়ার বসতঘরে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ওই দম্পতি দা-বঁটি দিয়ে ঘরের টিনের বেড়া কেটে বাইরে বেরিয়ে এলেও আগুনে দগ্ধ হন লাল মিয়া। স্থানীয় ব্যক্তিদের সহায়তায় রাতেই তাঁকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

লাল মিয়ার অভিযোগ, কয়েকজন প্রতিবেশীর সঙ্গে তাঁদের জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও রয়েছে। দুই দিন আগে তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি জানান।

পুড়ে যাওয়া বসতঘর দেখতে এসেছেন প্রতিবেশীরা। শনিবার সকালে টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গড়গোবিন্দপুর গ্রামের উখারিয়ারচালা এলাকায়

প্রতিবেশী আজমত আলী ও তাঁর স্ত্রী রুকিয়া বলেন, রাতে কান্নাকাটির শব্দ শুনে তাঁরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, ঘরের বাইরের দরজা শিকল দিয়ে আটকানো এবং ভেতরে আগুন জ্বলছে। এর মধ্যেই লাল মিয়া ও তাঁর স্ত্রী টিনের বেড়া কেটে বের হয়ে আসেন।

স্থানীয় ব্যক্তিদের ধারণা, দুর্বৃত্ত বা পূর্বশত্রুতার জেরে কেউ পরিকল্পিতভাবে ঘরের দরজা বাইরে থেকে শিকল দিয়ে আটকে আগুন ধরিয়ে দিয়ে থাকতে পারে। তবে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা এখনো জানা যায়নি।

সখীপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা রতন রায় প্রথম আলোকে বলেন, রাত ৩টা ২০ মিনিটে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে যান। তখন ঘরটি আগুনে পুড়ে গেছে। তাঁদের কাছে অনেক দেরিতে খবর দেওয়া হয়েছিল।

এ ঘটনায় এখনো থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি জানিয়ে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন বলেন, বিষয়টি শুনেছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।