
বান্দরবানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে সদ্য পদত্যাগ করা মোহাম্মদ এরফানুল হক বলেন, ৫ আগস্টের চেতনা থেকে বিচ্যুত হয়ে সারা দেশে এনসিপির অবস্থা ভালো নয়। তাদের জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে মিশে যাওয়া ছাড়া আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই।
আজ সোমবার বেলা সাড়ে তিনটায় বান্দরবান প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এরফানুল হক এ কথা বলেন। বান্দরবান আসনে ভিন্ন জেলা থেকে আসা একজনকে প্রার্থী করার প্রতিবাদে তিনি এই সংবাদ সম্মেলন করেন। এখানে তাঁর কয়েকজন কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
এরফানুল হক এনসিপির জেলা সদস্যসচিব ছিলেন। গত রোববার দল থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে দলটির সাবেক এই নেতা বলেন, বান্দরবান আসনে বহিরাগত প্রার্থী দিয়ে এনসিপি জেলাবাসীর সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এ জন্য নির্বাচনে তাদের মূল্য দিতে হবে।
এরফানুল হক বলেন, বান্দরবানে নির্বাচনের প্রার্থী নিয়ে এনসিপি প্রহসন করছে। আগে কোনো নির্বাচনে বান্দরবানে বহিরাগত প্রার্থী দেওয়া হয়নি কিন্তু এবারে এনসিপি সেই উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে আসবেন। অন্য এলাকার একজন জনগণের সুখ-দুঃখ ও ব্যথা-বেদনা উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন না। এনসিপি বান্দরবানের মানুষের আত্মসম্মানে আঘাত করেছে। এই অসম্মানের জবাব মানুষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেবে। তিনি বিএনপির প্রার্থী সাচিংপ্রু জেরীকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্যও ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এরফানুল হক বলেন, এনসিপির নেতৃত্ব ২০২৪-এর আগস্টের আন্দোলনের চেতনা থেকে সরে গিয়েছে। দলটি এখন বাংলামোটরের কতিপয় ব্যক্তির দলে পরিণত হয়েছে।
এরফানুল হক বলেন, এনসিপি এখন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে মিশে গিয়ে অস্তিত্ব রক্ষার চেষ্টা করছে। তাদের এই চেষ্টা ব্যর্থ হবে, তবে বর্তমানে এটি ছাড়া তাদের বিকল্প কোনো উপায়ও নেই। এ জন্য তিনি এনসিপির সব দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তবে এখনো বিএনপি বা অন্য কোনো দলে যোগদান করেননি তিনি।
বক্তব্য জানতে বান্দরবান আসনে এনসিপি ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। তবে দলের জেলা আহ্বায়ক মংসাপ্রু চৌধুরী এ নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক যেকোনো আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে তাঁরা প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন।