বিএনপি নেতা আদম আলীর মরদেহ দেখতে উৎসুক জনতার ভিড়। আজ সোমবার বিকেলে পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার চণ্ডীপাশা গ্রামে
বিএনপি নেতা আদম আলীর মরদেহ দেখতে উৎসুক জনতার ভিড়। আজ সোমবার বিকেলে পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার চণ্ডীপাশা গ্রামে

পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মামলা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

পাবনার আটঘরিয়ায় বিএনপি নেতা আদম আলীকে (৬০) গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে নিহত আদমের ছেলে শাহিন হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলার পর আজ মঙ্গলবার ভোরে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি ইরাজুল ইসলামকে (৫২) গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গতকাল বিকেলে উপজেলার চণ্ডীপাশা গ্রামে বিএনপি নেতা আদম আলীকে হত্যা করা হয়। তিনি একদন্ত ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। তিনি একদন্ত ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্যও। তাঁর বাড়ি ইউনিয়নের ষাটগাছা গ্রামে।

এ ঘটনার পর রাতে নিহত আদমের ছেলে শাহিন হোসেন ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এরপর আসামিদের ধরতে অভিযানে নামে র‍্যাব ও পুলিশ। আজ ভোরে নিজ গ্রাম থেকে ইরাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিকেলে তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে। ওসি আশা করছেন, দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও হত্যার কারণ উদ্‌ঘাটন করতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, আদম আলীর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে হত্যা মামলা হয়েছিল। এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন তিনি। সেই মামলায় জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি বাড়িতেই ছিলেন। গতকাল দুপুরে স্থানীয় একদন্ত বাজারে গিয়েছিলেন। বাজার থেকে বাড়িতে ফেরার পথে চণ্ডীপাশা গ্রামে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে একদল দুর্বৃত্ত। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে যান তিনি। পরে দুর্বৃত্তরা চাকু দিয়ে কুপিয়ে তাঁকে ফেলে রেখে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।