
ময়মনসিংহের নান্দাইলে নৌকায় ঘুরতে নিয়ে পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। গতকাল রোববার রাতে তাঁকে আটক করে পুলিশ।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ মোস্তফা নান্দাইল। তিনি ওই উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় মাছ বিক্রেতা।
পুলিশ ও শিশুটির স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিশুটিকে নিয়ে নরসুন্দা নদীতে নৌকায় ঘুরতে যান মোহাম্মদ মোস্তফা। এ সময় শিশুটির মা এক প্রতিবেশীর বাড়িতে কাজে গিয়েছিলেন। নদীতে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন মোস্তফা।
মা বাড়িতে ফিরে শিশুটিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে দেখেন, শিশুটি কান্নাকাটি করতে করতে বাড়ি ফিরছে। পরে শিশুটির কাছে ধর্ষণের বিষয়টি জানতে পারেন।
পরিবারটি প্রথমে লোকলজ্জার ভয়ে কাউকে কিছু জানায়নি। গতকাল সন্ধ্যার দিকে শিশুটির শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে। এ অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আমার অবুঝ সন্তানের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে, আমি তার কঠিন শাস্তি চাই।শিশুটির বাবা
এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আকরাম উল্লাহ জানান, শিশুটি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
আজ সোমবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছে বলে জানান তাঁর এক স্বজন। তাঁর ভাষ্য, ধর্ষণের বিষয়টি জানাজানি হলে গতকাল রাতে এলাকাবাসীর সহায়তায় পুলিশ ওই যুবককে আটক করে।
তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে তাঁদের আশ্বাস দেন নান্দাইল মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোজাহিদুল ইসলাম।
এদিকে আজ বেলা একটার দিকে শিশুটির বাবা নান্দাইল মডেল থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার অবুঝ সন্তানের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে, আমি তার কঠিন শাস্তি চাই।’
এ ঘটনার বিচারের দাবিতে আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নান্দাইল মডেল থানায় যান এলাকাবাসী। দোষী ব্যক্তির কঠোর শাস্তি দাবি করেন তাঁরা। তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে তাঁদের আশ্বাস দেন নান্দাইল মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোজাহিদুল ইসলাম।
এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে মন্তব্য করে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আশরাফুল করিম বলেন, মামলা শেষে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।