রাজবাড়ীর পাংশা থেকে অসুস্থ হনুমানটি খুলনায় নিয়ে যায় সেখানকার বন্য প্রাণী পুনর্বাসন ও সংরক্ষণ বিভাগের লোকজন। আজ শুক্রবার দুপুরে
রাজবাড়ীর পাংশা থেকে অসুস্থ হনুমানটি খুলনায় নিয়ে যায় সেখানকার বন্য প্রাণী পুনর্বাসন ও সংরক্ষণ বিভাগের লোকজন। আজ শুক্রবার দুপুরে

ব্যথায় কাতর হয়ে রাজবাড়ীর ক্লিনিকে আসা হনুমানটিকে পাঠানো হলো খুলনায়

ব্যথায় কাতর হয়ে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার একটি ক্লিনিকে আসা আহত হনুমানটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় নেওয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুরে উপজেলা বন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে খুলনা বন্য প্রাণী পুনর্বাসন ও সংরক্ষণ কেন্দ্রের একটি দল হনুমানটিকে নিয়ে যায়। পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পাংশা উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক জানান, আজ দুপুর ১২টার দিকে খুলনা বন্য প্রাণী পুনর্বাসন ও সংরক্ষণ কেন্দ্রের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা ইসমাঈল হোসাইনের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দল পাংশায় আসে। তাঁরা হনুমানটিকে নিজেদের খাঁচায় তুলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পিকআপে করে খুলনার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে বিশেষজ্ঞ তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেওয়া হবে। পুরোপুরি সুস্থ হলে উপযুক্ত পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হবে।

এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুরে আহত হনুমানটি রাজবাড়ীর পাংশা শহরের বেসরকারি হামিদা মেডিক্যাল সেন্টারে নিজেই এসে আশ্রয় নেয়। সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের কাছে নিজের অসুস্থতার বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করে। একটি বন্য প্রাণীর এমন আচরণ উপস্থিত সবাইকে বিস্মিত করে। পরে খবর পেয়ে বন বিভাগ প্রাণীটিকে উদ্ধার করে প্রাণিসম্পদ বিভাগের সহায়তায় প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হনুমানটি মেডিক্যাল সেন্টারের রোগীদের বসার বেঞ্চে মাথা নিচু করে বসে ছিল। পরে কখনো বেঞ্চে শুয়ে পড়ছিল, আবার কখনো ডান হাতের ক্ষতস্থান দেখানোর চেষ্টা করছিল। এ সময় অনেকে মুঠোফোনে ছবি তোলেন এবং কলা ও বিস্কুট খেতে দেন।

হনুমানটিকে খাঁচায় তুলে পিকআপে করে খুলনার উদ্দেশে নেওয়া হয়।

হামিদা মেডিক্যাল সেন্টারের পরিচালক আরিফুল ইসলাম বলেন, হনুমানটি হাত দিয়ে নিজের আঘাত দেখানোর চেষ্টা করছিল। ক্ষতস্থানে কয়েকটি সেলাই ছিল। পরে তাঁরা জানতে পারেন, পাংশার হাবাসপুর এলাকার এক তাল বিক্রেতা ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রাণীটিকে আঘাত করেছিলেন। প্রথমে সেদিন সকালে প্রায় ১০ মিনিট অবস্থান করে চলে যায়। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আবার ক্লিনিকে ফিরে আসে। তাঁদের প্রতিষ্ঠানে প্রাণীর চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এরপর বন বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগকে বিষয়টি জানানো হয়।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের ভেটেরিনারি সার্জন ফাহাদ মোহাম্মদ বলেন, জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে জরুরি ফোন পেয়ে তাঁরা ক্লিনিকে যান। তাঁদের ধারণা, হনুমানটির আগের ক্ষতস্থানে সংক্রমণ হয়েছিল। অনেক কষ্টে দুটি ইনজেকশন দেওয়া হয় এবং বন বিভাগের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়।

ইউএনও রিফাতুল হক বলেন, স্থানীয় বন বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের উদ্যোগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা বন্য প্রাণী পুনর্বাসন ও সংরক্ষণ কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাদের দল আজ হনুমানটিকে খুলনায় নিয়ে গেছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হলে উপযুক্ত স্থানে অবমুক্ত করা হবে।