টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বসতঘর থেকে মা–মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। চার বছরের কন্যাশিশুকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার পর মা আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার ধুপুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ওই নারীর নাম কণিকা বেগম (২৮)। তিনি মির্জাপুরের আনাইতারা ইউনিয়নের ধুপুরিয়া গ্রামের নির্মাণশ্রমিক রাজীব হোসেনের (৩০) স্ত্রী। তাঁদের একমাত্র মেয়ে রাজিয়া আক্তার (৪)।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কনিকার বাবার বাড়ি পাশের ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার ঝুরঝুরিয়া গ্রামে। প্রায় ছয় বছর আগে রাজীবের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই সংসারের আর্থিক অনটন নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো।
গত বৃহস্পতিবার রাতে পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে রাজীব স্ত্রীকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। রাতে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন শুক্রবার সকালে কণিকা মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়িতে যাওয়ার জন্য বের হন। কিছুদূর যাওয়ার পর রাজীবের বাবা নাজিম মিয়া তাঁকে রাস্তা থেকে ফিরিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
বাড়িতে ফিরে কণিকা মেয়েকে নিয়ে নিজেদের ঘরে ঢোকেন। দীর্ঘ সময় তাঁদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতর উঁকি দেন। এ সময় তাঁরা ঘরের আড়ার সঙ্গে কণিকার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। পরে ঘরে ঢুকে মেঝেতে শিশু রাজিয়ার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে মির্জাপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আদনান মোস্তাফিজ ও মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করে।
লাশ দুটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে বলে জানান মির্জাপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে কণিকা বেগম তাঁর মেয়েকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।