
দেশে ধান-চাল উৎপাদনের অন্যতম প্রধান জেলা নওগাঁয় চালের দাম কেজিতে এক থেকে তিন টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মিলগেটে কাটারিভোগ চাল বিক্রি হচ্ছে ৭৩ থেকে ৭৫ টাকায়। জিরাশাইল বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭১ টাকায় এবং স্বর্ণা জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৪৯ টাকায়। পাইকারিতে চালের দাম বাড়ায় স্থানীয় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে চলতি বোরো মৌসুমে উৎপাদিত নতুন চালের সরবরাহ কম। তা ছাড়া হাটবাজারে ধানের দাম বাড়ায় চালের দাম বেড়েছে। এদিকে ভরা মৌসুমে চালের দাম বাড়ার পেছনে সিন্ডিকেটের কারসাজিকে দায়ী করছেন ভোক্তারা। তাঁদের দাবি, বাজার নিয়ন্ত্রণে চালকলগুলোতে মজুতবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে।
নওগাঁ ধান-চাল উৎপাদনে বরাবরই সমৃদ্ধ। বর্তমানে জেলায় বোরো ধান কাটার মৌসুম চলছে। ইতিমধ্যে খেত থেকে বেশির ভাগ ধান কৃষকের ঘরে উঠে গেছে। হাটবাজারে পর্যাপ্ত ধানের সরবরাহ আছে। এমন সময় স্বাভাবিকভাবে চালের দাম নিম্নমুখী হওয়ায় কথা থাকলেও এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি ও খুচরা বাজারে চালের দাম এক থেকে তিন টাকা বেড়েছে।
জেলার সবচেয়ে বড় চালের মোকাম শহরের আলুপট্টি এলাকার কয়েকটি আড়তে গিয়ে জানা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন মিলগেটে ৫০ কেজির বস্তাপ্রতি চালের দাম ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগে মানভেদে প্রতি বস্তা জিরাশাইল চালের দাম ছিল ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা। এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫৫০ টাকায়। কাটারিভোগ চালের দাম এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩ হাজার ৬০০ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৬৫০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ টাকায়।
এ ছাড়া মোটা চাল হিসেবে পরিচিত আমন মৌসুমে উৎপাদিত স্বর্ণা জাতের চাল প্রতি বস্তা ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে তা ছিল ২ হাজার ২৫০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা। এ ছাড়া বিআর-২৮, শুভলতা, পারিজা ও মোয়াজ্জেম চালের দামও বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এখন খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি বিআর-২৮, পারিজা, শুভলতা ও মোয়াজ্জেম চাল মানভেদে ৫৫ থেকে ৫৮ টাকা দরে এবং সরু চালের মধ্যে কাটারিভোগ ৭৬ থেকে ৭৭ টাকা এবং জিরাশাইল ৭১ থেকে ৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শহরের গোস্তহাটির মোড়ে পৌর ক্ষুদ্র চাল বাজারের লক্ষ্মী চাল ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী উত্তম সরকার বলেন, পাইকারিতে সব ধরনের চালের বস্তায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। জিরাশাইল চাল পাইকারিতে ৭০ টাকায় কিনে তাঁদের ৭১ থেকে ৭২ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে খুচরায় দাম ছিল ৬৮ থেকে ৭০ টাকা। পাশাপাশি অন্য চালের দামও কেজিতে এক থেকে তিন টাকা বেড়েছে।
চাল কিনতে আসা আরমান হোসেন বলেন, ‘এক বস্তা কাটারিভোগ চাল কিনলাম। দাম নিল ৩ হাজার ৮৫০ টাকা। দুই মাস আগে একই চাল কিনেছিলাম ৩ হাজার ৬৫০ টাকায়। কম বেতনে বেসরকারি চাকরি করে টানাটানি করে সংসার চালাই। চালসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় সংসার চালাতে চাপ বেড়ে গেল।’ মানিক নামের আরেকজন ভোক্তা বলেন, ভরা মৌসুমে চালের দাম বাড়ার কোনো যুক্তিই হয় না। ধান-চাল মজুত করে রেখে কেউ দাম বাড়াচ্ছে কি না, বিষয়টি প্রশাসনের খতিয়ে দেখতে হবে।
মূল্যবৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে হাওরসহ দেশের সব এলাকাতেই কমবেশি ফসল নষ্ট হয়েছে। শুরুতে ধানের দাম কিছুটা নিম্নমুখী ছিল। এখন বাজারে ধানের দাম বেশি। এক-দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি মণ ধানের দাম ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। তা ছাড়া সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এ জন্য পাইকারিতে চালের দাম কেজিতে এক থেকে তিন টাকা বেড়েছে।