জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে এক কৃষকের বাড়ি থেকে জব্দ করা সার
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে এক কৃষকের বাড়ি থেকে জব্দ করা সার

‎পাঁচবিবিতে এক কৃষকের বাড়িতেই পাওয়া গেল ৭৫ বস্তা সার

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে এক কৃষকের বাড়িতে ৭৫ বস্তা সার পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অবৈধভাবে মজুত করা হয়েছিল ৫৪ বস্তা সার। এ ঘটনায় ওই কৃষককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গতকাল‎ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের শিরতা গ্রামে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাশপিয়া তাসরিন।

এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মল্লিকা রানী সেহানবীশ, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জহির রায়হানসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ওই কৃষকের দাবি, আলুর জমিতে ব্যবহারের জন্য সারের সংকটের আশঙ্কায় আগেভাগে এসব সার কিনে বাড়িতে রেখেছিলেন তিনি।

‎ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, কৃষক রমজানের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ সার মজুতের খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ৭৫ বস্তা ভর্তি ও আরও একটি বস্তার অর্ধেক সার পাওয়া যায়। যাচাই-বাছাইয়ের সময় রমজান ২১ বস্তা সারের বৈধ রসিদ দেখাতে পারেন। বাকি ৫৪ বস্তার কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় সেগুলো জব্দ করা হয়। জব্দ করা সারের মধ্যে টিএসপি ১২ বস্তা, এমওপি ২০ বস্তা, ডিএপি ১৯ বস্তা ও তিন বস্তা ইউরিয়া সার রয়েছে।

‎উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মল্লিকা রানী সেহানবীশ বলেন, রমজান ২১ বস্তা সারের মেমো দেখাতে পেরেছেন। বাকি ৫৪ বস্তার কোনো মেমো দেখাতে পারেননি। তাই বৈধ মেমো থাকা সার বাদ দিয়ে বাকি সার জব্দ করা হয়েছে।

‎কৃষক রমজান বলেন, আলুর জমিতে ব্যবহারের জন্য তিনি সারগুলো কিনে বাড়িতে রেখেছিলেন। সামনে সারের সংকট দেখা দিতে পারে, এমন আশঙ্কায় আগেভাগে সার কিনে রেখেছেন। তাঁর আবাদি জমির প্রয়োজন মেটাতেই এসব সার মজুত করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

‎অভিযান শেষ হতে রাত হয়ে যাওয়ায় জব্দ করা সার বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। সারগুলো পাঁচবিবি থানার হেফাজতে রাখা হয় বলে জানান ‎পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তামবিরুল ইসলাম।

‎উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাশপিয়া তাসরিন বলেন, জব্দ করা সার স্থানীয় কৃষকদের কাছে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করে পাওয়া অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।