
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ (ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী) আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে হেরেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন। কয়েক মাসের ব্যবধানে একই আসনে আবারও ভোটের মাঠে ফিরছেন তিনি। তবে এবার তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কে হচ্ছেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হয়। এই আসনে আগামী ২৯ অক্টোবর উপনির্বাচন হবে। ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে দেলাওয়ার হোসেনের নাম ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করেছে জামায়াতে ইসলামী।
অন্যদিকে বিএনপির একাধিক নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী হওয়ায় দলটির প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার কথা আছে।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়েছিলেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ছিল ৯৭ হাজার ৮১৯।
৩০ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আবদুল উপনির্বাচনে দেলাওয়ার হোসেনের নাম ঘোষণা করেন।
দেলাওয়ার হোসেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি।
দেলাওয়ার হোসেন ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করছেন। তাঁর পাশাপাশি জামায়াতের নারী কর্মীরাও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, যে প্রত্যাশা নিয়ে দেশের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়েছিল, তা পূরণ হয়নি। দলটি এখন ফ্যাসিস্ট মনোভাব পোষণ করছে। দেশের মানুষ তাদের বর্জন করতে শুরু করেছে। এ কারণে তিনি আশাবাদী।
যে প্রত্যাশা নিয়ে দেশের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়েছিল, তা পূরণ হয়নি। দলটি এখন ফ্যাসিস্ট মনোভাব পোষণ করছে। দেশের মানুষ তাদের বর্জন করতে শুরু করেছে। এ কারণে তিনি আশাবাদী।দেলাওয়ার হোসেন, জামায়াতের প্রার্থী
অন্যদিকে বিএনপির একাধিক নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী হওয়ায় দলটির প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার কথা আছে।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়েছিলেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ছিল ৯৭ হাজার ৮১৯।
দেলাওয়ারের প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার পর ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন, সেটিই স্থানীয় রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়। দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম মির্জা ফয়সল আমিন। তিনি জেলা বিএনপির সভাপতি এবং রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই।
এ ছাড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী এবং জেলা বিএনপির আরেক সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদও মনোনয়ন চাইবেন।
মনোনয়নের বিষয়ে মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক আছে। জনপ্রতিনিধি থাকার কারণে সাধারণ মানুষেরও তাঁর কাজের প্রতি আস্থা আছে। বিএনপি বড় দল হওয়ায় মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা অনেকেরই আছে। তাঁরও প্রত্যাশা রয়েছে। তবে কে দলের প্রার্থী হবেন, সেই সিদ্ধান্ত মনোনয়ন বোর্ড নেবে।
আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী সুলতানুল ফেরদৌস জাতীয় পার্টির ঠাকুরগাঁও জেলার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। সুলতানুল ফেরদৌস বলেন, তিনি মনোনয়নপত্র কিনবেন। তবে দলের মনোনয়ন বোর্ড যাঁকে প্রার্থী করবে, তাঁর পক্ষেই তিনি মাঠে কাজ করবেন।
ওবায়দুল্লাহ মাসুদ ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে এসেছেন। তিনি ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের জিএস ও ভিপি ছিলেন। তিনি বলেন, ছাত্রদল থেকে উঠে আসা কোনো নেতা মনোনয়ন পেলে বিএনপির রাজনীতির প্রতি নেতা-কর্মীদের আস্থা বাড়বে।
এদিকে জেলা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও বিএনপি-সমর্থিত বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের ঠাকুরগাঁও জেলার সাধারণ সম্পাদক সত্যজিৎ কুমার কুন্ডু স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন। দল তাঁকে বহিষ্কার করলেও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন না।
এ ছাড়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমও এ উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।
দলে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকতেই পারেন। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শত নির্যাতনের পরও যিনি দলের হাল ধরে রেখেছিলেন, তাঁকেই তাঁরা প্রার্থী হিসেবে চান। ঠাকুরগাঁওয়ে যে উন্নয়নের ধারা চলছিল, তা অব্যাহত রাখতে ভোটাররা বিএনপির প্রার্থীকেই বেছে নেবেন।পয়গাম আলী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী বলেন, দলে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকতেই পারেন। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শত নির্যাতনের পরও যিনি দলের হাল ধরে রেখেছিলেন, তাঁকেই তাঁরা প্রার্থী হিসেবে চান। ঠাকুরগাঁওয়ে যে উন্নয়নের ধারা চলছিল, তা অব্যাহত রাখতে ভোটাররা বিএনপির প্রার্থীকেই বেছে নেবেন।
১০ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২৯ সেপ্টেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ আগামী ৭ অক্টোবর এবং প্রতীক বরাদ্দ হবে ৮ অক্টোবর। ভোট গ্রহণ হবে ২৯ অক্টোবর।