ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর থানা থেকে আটক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে আনেন জামায়াতের নেতারা। গত বুধবার রাতে
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর থানা থেকে আটক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে আনেন জামায়াতের নেতারা। গত বুধবার রাতে

কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতা সন্দেহে আটক, থানা থেকে ছাড়িয়ে নিলেন জামায়াতের নেতারা

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের নেতা মনে করে হায়দার আলী (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। পরে জামায়াতের নেতারা থানায় এসে দাবি করেন, আটক ব্যক্তি তাঁদের কর্মী। পুলিশের কাছে তাঁরা দলীয় চাঁদার রসিদ ও কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার প্রমাণ দেখান। এরপর পুলিশ হায়দার আলীকে ছেড়ে দেয়।

হায়দার আলী (৪৫) উপজেলার কুশনা ইউনিয়নের তালসার গ্রামের মৃত দলিল উদ্দিনের ছেলে। গতকাল বুধবার রাত নয়টার দিকে কোটচাঁদপুর থানা থেকে তিনি ছাড়া পান।

এ সম্পর্কে কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক হিসেবে হায়দার আলীকে আটক করেন তালসার পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) তবিবুর রহমান। পরে স্থানীয় জামায়াতের নেতারা এসে জানান, ২০২২ সাল থেকে তিনি (হায়দার) তাঁদের দলের সক্রিয় কর্মী। তাঁর পক্ষে ইয়ানত (দলীয় চাঁদা) দেওয়ার রসিদসহ সভা-সমাবেশ করার প্রমাণ দেখান।

ওসি মেহেদী হাসান আরও বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে হায়দার আলীকে জামায়াতের নেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে সোর্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ গতকাল সন্ধ্যা ছয়টার দিকে হায়দার আলীকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর রাত ৯টার দিকে তিনি থানা থেকে ছাড়া পান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির আজিজুর রহমান, জেলা জামায়াতের সুরা সদস্য ও যুব বিভাগের সম্পাদক শরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

হায়দার আলীকে মুক্ত করে বেরিয়ে আসার সময় কোটচাঁদপুর পৌর জামায়াতের আমির আবদুল কাইয়ুম বলেন, ‘আমরা থানায় গিয়ে হায়দার আলী যে জামায়াতের সংগঠনের সঙ্গে জড়িত, সেটা ওসি সাহেবকে জানালাম। ওসি সাহেব তখন তাঁর পক্ষে কাগজপত্র চান। এ সময় আমরা তাঁর ২০২২ সাল থেকে জামায়াত-সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র দাখিল করি। এরপর ওসি তা যাচাই-বাছাই করেন এবং তাঁকে আমাদের উপজেলা আমিরের হাতে হস্তান্তর করেন।’