ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক

বৃষ্টিতে খানাখন্দে দুর্ভোগ অশেষ

সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা টঙ্গী বেইলি সেতু থেকে চেরাগ আলী পর্যন্ত। সড়কের দুই দিকে বিশাল সব গর্ত। মাঝেমধ্যেই আটকে যাচ্ছে যানবাহন।

ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে মোটরসাইকেল নিয়ে উল্টে পড়েছেন যাত্রী। গতকাল টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকায়
ছবি: প্রথম আলো

পিচঢালাই উঠে গেছে স্থানে স্থানে, সড়কে দেখা দিয়েছে বড় বড় গর্ত। অল্প বৃষ্টিতেই নালার পানি উপচে ছড়িয়ে পড়ছে সড়কজুড়ে। যানবাহন চলছে ধীরগতিতে, হেলেদুলে। মাঝেমধ্যে গর্তে আটকে যাচ্ছে গাড়ি, পেছনে দেখা দিচ্ছে যানজট। গতকাল সোমবার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আবদুল্লাহপুর থেকে চান্দনা চৌরাস্তা সড়কের চিত্র এটি।

১১ বছর ধরে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের অধীনে সড়কটির কাজ চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। প্রতিবছর বর্ষায় সড়কটিতে মানুষের ভোগান্তি বাড়ে। এবারও বর্ষা শুরুর আগে তেমন আশঙ্কাই করা হচ্ছিল। কিন্তু গা করেনি কেউ, নেওয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ। ফল যা হওয়ার তাই। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে মহাসড়কটি খানাখন্দে ভরে গেছে।

বর্ষার আগে সড়ক মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন, জানতে চাইলে বিআরটি প্রকল্পের পরিচালক মহিরুল ইসলাম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘যেহেতু এটা চলমান কাজ, তাই স্থায়ীভাবে সড়কে কোনো ঢালাই দেওয়া হয়নি। তা ছাড়া আমরা সব সময়ই ভাঙা অংশ মেরামত করছি।’

স্থানীয় লোকজন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রকল্পের কাজের ধীরগতি বা ঢিলেমির কারণে সড়কটি এখন লাখো মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রকল্পের কাজের অংশ হিসেবে সড়কের যত্রতত্র খুঁড়ে রাখা হয়েছে। যেখানে-সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে ইট, বালুসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী।

সড়কসংলগ্ন টঙ্গী বাজারের আসবাব ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. মেরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত ১০-১১ বছর ধরে আমরা চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে টঙ্গী এলাকায় সড়কটি দিয়ে চলাচলের অবস্থা নেই। টঙ্গী বাজার ও স্টেশন রোড এলাকায় ভাঙাচোরার কারণে কোনো গাড়ি আসতে চায় না। নানা অজুহাতে ভাড়া বাড়িয়ে দেয়।’

গতকাল দুপুরে সড়কটির রাজধানীর আবদুল্লাহপুর থেকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এলাকা ঘুরে দেখেন এই প্রতিবেদক। দেখা যায়, রাজধানীর উত্তরার সাইদগ্র্যান্ড সেন্টারের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিআরটির একটি উড়ালসড়ক এসে নেমেছে টঙ্গীর কলেজগেট এলাকায়। উড়ালসড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার। এই উড়ালসড়কে চলাচল করছে কিছু যানবাহন। আর নিচের সড়কে চলছে যাত্রীবাহী বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন গাড়ি।

নিচের সড়কে টঙ্গী বেইলি সেতু থেকে চেরাগ আলী পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা অনেক খারাপ। বিশেষ করে টঙ্গী বাজার, বাটা গেট, স্টেশন রোড, কামারপাড়া সড়কের মাথা, মন্নু গেট, মিল গেট ও চেরাগ আলী এলাকায় সড়কের উভয় দিকে তৈরি হয়েছে বিশাল বিশাল সব গর্ত। বৃষ্টির পানিতে সেসব গর্ত ঠিকঠাক ঠাওরও করা যায় না।

চেরাগ আলীর কাদেরিয়া টেক্সটাইল মিলস আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে এসে নেমেছে বিআরটির উড়ালসড়কটি। এখানে চলছে উড়ালসড়কের দুটি র‌্যাম্প নির্মাণের কাজ। এতে সংকুচিত হয়ে পড়েছে সড়কটি। তার ওপর এখানে বড় বড় গর্তে জমে আছে বৃষ্টির পানি। প্রায় সব যানবাহনকেই এখানে এসে গতি কমাতে হচ্ছে। এতে থেমে থেমে দেখা দিচ্ছে যানজট।

কথা হলো আলম এশিয়া পরিবহনের চালক মো. ইউনুস আলীর সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘টঙ্গীর কলেজগেট থেকে আবদুল্লাপুর সড়কটিতে আমাদের এখন সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পুরো সড়কে গর্ত। মাঝেমধ্যে গর্তে গাড়ি আটকে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রীরাও আমাগোর সাথে চিল্লায়।’

গতকাল দুপুরের দিকে টঙ্গী স্টেশন রোডের আগে একজন এবং মিল গেটের কাছে দুজন চালককে কর্দমাক্ত রাস্তায় মোটরসাইকেল নিয়ে আছড়ে পড়তে দেখা গেল। একজন বললেন, খানিক আগে তাঁর সামনে আরও তিন মোটরসাইকেলচালককে একইভাবে দুর্ঘটনায় পড়তে দেখেছেন।

জানতে চাইলে বিআরটি প্রকল্পের পরিচালক মহিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, চেরাগ আলী এলাকায় উড়ালসড়কের র‌্যাম্প নির্মাণ চলছে। মালামাল আনা-নেওয়াসহ বিভিন্ন কারণে সড়কে স্থায়ী ঢালাই দেওয়া যাচ্ছে না। কোনো গর্ত তৈরি হলে তাঁরা মেরামত করে দিচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহাসড়কের বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত চলছে বিআরটি প্রকল্পের কাজ। ২০১২ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ শেষে ২০১৬ সাল থেকে বিশেষ বাস চালুর কথা ছিল। প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের জয়দেবপুর পর্যন্ত জোড়া লাগানো আধুনিক বাস চলার কথা।

এসব বাসের পথ হবে সড়কের মাঝখান দিয়ে। যানজট, সংকেত কিংবা অন্য কোনো কারণে কোথাও বাসের চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে না। ঘণ্টায় ২০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন এসব বাসে। কিন্তু আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৯৫ ভাগ। ফলে গত ১১ বছর ধরে সড়কটিতে মানুষের ভোগান্তি এতটুকু কমেনি।