ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট
ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট

ফেনী পলিটেকনিক

নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ফেসবুকে শিবির কর্মীর অশালীন পোস্ট, মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিল পুলিশ

ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের আবাসিক হোস্টেলের নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ফেসবুকে অশালীন মন্তব্য করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে মোরশেদ আলম ওরফে আদিব (২০) নামের এক শিবির কর্মীকে আটক করে পুলিশে দেন ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা। পরে ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ কোনো অভিযোগ না দেওয়ায় তাঁকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

মোরশেদ ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের তৃতীয় পর্বের শিক্ষার্থী। তিনি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী বলে সংগঠনটির স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন।

পুলিশ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও আবাসিক হোস্টেল সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রী হোস্টেলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে মোরশেদের ফেসবুকে দেওয়া অশালীন মন্তব্যের বিষয়টি জানাজানি হলে গতকাল রাতে আবাসিক শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করেন। একপর্যায়ে ছাত্র হোস্টেলের শিক্ষার্থীরাও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। পরে শিক্ষার্থীরা আদিবকে আটক করে ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

রাতে পুলিশ মোরশেদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে বলে জানান ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শিক্ষক সমিতির সভাপতি জি এম তাজউদ্দিন।

ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. রুবেল মোঘল বলেন, সম্প্রতি নারী হোস্টেলের আঙিনায় পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। তাঁরা হোস্টেলের পাশ থেকে কী কী পেয়েছেন, তা মোরশেদ তাঁদের কাছে জানতে চান। পরে নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে তিনি ফেসবুকে পোস্ট দেন। এ কারণে শিক্ষার্থীরা তাঁকে আটক করে পুলিশের কাছে তুলে দেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত মোরশেদকে অন্য কোনো পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন।

রাতেই ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ করেন শিক্ষার্থীরা

ঘটনার বিষয়ে ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি খায়ের উদ্দিন বলেন, ছাত্রশিবিরের কর্মী মোরশেদ আলমের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, তবে তিনি ছাত্রশিবিরের সক্রিয় কর্মী নন। তাঁর অপরাধের বিষয়ে ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে। যেহেতু তাঁর কোনো দলীয় পদ নেই, তাই তাঁর বিরুদ্ধে সংগঠনগতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।

আদিবকে আটকের বিষয়ে জানতে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম ও পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশের মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি। পরে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাজিদ কামালকে ফোন করা হলে তিনি ছুটিতে আছেন বলে জানান। থানার ডিউটি অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি রেজিস্টার খাতা দেখে বলেন, মোরশেদ নামে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কোনো শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়নি।

ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শিক্ষক সমিতির সভাপতি জি এম তাজউদ্দিন বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে রাতে মোরশেদকে আটক করে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ না দেওয়ায় পুলিশ তাঁকে আবার কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে।

তিনি বলেন, রাতেই অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নারী শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টটি মুছে দেন। পরে ক্ষমা চেয়ে নতুন করে আরেকটি পোস্ট দেন।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের কথা বিবেচনা করে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে অভিযোগের বিষয়ে আজ মঙ্গলবার সকালে একাডেমিক কাউন্সিল সভায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কলেজের নিরাপত্তার স্বার্থে তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে আদিবকে অন্য কোনো পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হবে।

অভিযোগের বিষয়ে ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ রেজাউল করিমের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।