সড়কে কাঁদলেন মা, চাইলেন ছেলে হত্যার বিচার

শিশু মুরাদ হোসেনের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আহাজারি করছেন তার মা মুক্তা বেগম। পাশে স্বজন ও এলাকাবাসী। রোববার দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের চৌরাস্তায়
 ছবি: মজিবর রহমান খান

বেলা সাড়ে ১১টা। তপ্ত রোদে পিচঢালা সড়কে বসে-দাঁড়িয়ে নারী-পুরুষ। তাঁদের কারও সঙ্গে আছে শিশু ছেলেমেয়ে। তাঁদের অনেকের হাতে ব্যানার-ফেস্টুন। চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে এক নারী বলছিলেন, ‘ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই, ছেলে হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।’

ওই নারীর নাম মুক্তা বেগম। তিনি নিহত শিশু মুরাদ হোসেনের মা। গত ৪ মে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মাদারগঞ্জ এমবি উচ্চবিদ্যালয়ের পাশের একটি ভুট্টাখেত থেকে ১১ বছরের শিশু মুরাদ হোসেনের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত মুরাদ মাদারগঞ্জ হাফেজিয়া মাদ্রাসা খররা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের আবাসিক ছাত্র ছিল। তাকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে পরিবারের পক্ষ থেকে ৬ মে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা করা হায়। এ মামলায় ১৬ মে সদর উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামের মাসুদ রানাকে (২১) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে পুলিশ তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। ১০ জুলাই মাসুদ রানা জামিনে বের হয়ে আসেন। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে কয়েক শ নারী-পুরুষ একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের চৌরাস্তায় জড়ো হন। পরে তাঁরা মাসুদ রানার জামিন বাতিল ও হত্যা মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন চলাকালে তাঁরা একপর্যায়ে সড়কে বসে পড়ে বিক্ষোভ করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে চৌরাস্তার চারপাশে অসংখ্য যানবাহন আটকে যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে মুক্তা বেগম নানা স্লোগান দেন। মুক্তা বলেন, ‘মানুষ হওয়ার জন্য ছেলেকে মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলাম। কিন্তু ছেলে লাশ হয়ে ফিরে এল। যারা আমার ছেলেকে কষ্ট দিয়ে মেরে ফেলল, তাদের আমি ফাঁসি চাই।’

মুক্তা বেগম আরও বলেন, ‘আমার বুকের ধন হারায় গেছে। এ নিয়ে কারও মধ্যে মায়া নাই। আমার ১১ বছরের বাচ্চাকে কেন মারা হলো? সে কী দোষ করেছে? এ ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের একজনকে পুলিশ ধরার পর আদালত জামিন দিয়ে দিলেন। আমি এটা মানতে পারছি না। আমরা যদি ছেলে হত্যার বিচার না পাই, তাহলে আরও অনেক মাকেও আমার মতো কাঁদতে হবে।’

ছেলে হত্যার বিচার দাবিতে সড়কে এসে কান্না করেন মা। পাশে স্বজন ও এলাকাবাসী। রোববার দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের চৌরাস্তায়

দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ এসে বিক্ষোভকারীদের সড়ক ছেড়ে দিতে বলে। কিন্তু তাঁরা পুলিশকে সাফ জানিয়ে দেন, আসামি গ্রেপ্তারের আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা সড়ক ছেড়ে যাবেন না। পরে আরও পুলিশ এসে সড়ক থেকে তাঁদের সরিয়ে দিতে গেলে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিথুন সরকার, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ কবিরসহ অন্য পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিক্ষোভকারীরা সড়ক থেকে সরে যান।

এ নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিথুন সরকার বলেন, হত্যা মামলাটি খুবই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তিনি এখন জামিনে আছেন। আর সহযোগী আসামিরা জেলার বাইরে আছেন। তাঁদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। এমন আশ্বাসের পর তাঁরা সড়ক ছেড়ে গেছেন।