
ময়মনসিংহের ত্রিশালে মুঠোফোন চুরির অভিযোগে দুই শিশুকে নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে (ভাইরাল)। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে গাজীপুর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, কিছু যুবক চুরির অপবাদ দিয়ে দুই শিশুকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করছেন। একপর্যায়ে এক শিশুকে পুকুরে জোর করে নামিয়ে বারবার পানিতে চোবানো হয়। অপর শিশুকে পুকুরে নামাতে গেলে একজনের পায়ে ধরে সে প্রাণভিক্ষা চায়, তারপরও তাকে টেনেহিঁচড়ে পানিতে নামিয়ে চোবানো হয়। শিশুদের শ্বাসরোধ করে শূন্যে তুলে আছাড় মেরে চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হয়। ব্যর্থ হয়ে তাদের পুকুরপাড়ের বাথরুমের নোংরা পানি জোর করে খাওয়ানো হয়। এতে শিশুরা বমি করতে থাকে এবং বারবার চিৎকার করে প্রাণভিক্ষা চায়। এ সময় শিশুদের বলতে শোনা যায়, ‘ভাইরে, বড় ভাইগো, মারিস না।’ একপর্যায়ে তারা নিস্তেজ হয়ে পড়লেও নির্যাতনকারীদের মধ্যে কোনো দয়া দেখা যায়নি। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, উপস্থিত কিছু যুবক উদ্ধার করার পরিবর্তে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত ২৭ মার্চ ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের ধলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এলাকার দিনমজুর মো. মাহাবুল আলম ওরফে বুলবুল ইসলামের দুই শিশু আরাফাত হোসেন (৮) ও মিহাদ হোসেন (৫) নির্যাতনের শিকার হয়। এই দুই শিশুকে মুঠোফোন চোর সন্দেহে তাদের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে প্রতিবেশী মিজানুর রহমান জোর করে তাঁর পুকুরে এনে আরও কয়েকজন মিলে মারধর করেন। এরপর দুই শিশুকে পুকুরের পানিতে চুবিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এ ছাড়া এই দুই শিশুকে মারধরে জোর করে রাস্তার পাশে ময়লাযুক্ত পানি খাওয়ানো হয়।
এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার শিশুর বাবা মাহাবুল আলম বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে গতকাল থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ গাজীপুর থেকে ঘটনায় অভিযুক্ত মো. আবদুল্লাহ আল মাসুম (২৮) নামের এক ব্যক্তিকে দিবাগত রাত সোয়া দুইটার দিকে গ্রেপ্তার করে।
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘মুঠোফোন চুরির অভিযোগ এনে দুই শিশুকে নির্যাতনের ঘটনা নজরে আসার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ইতিমধ্যে মামলা হয়েছে। শিশুদের পানিতে চোবানো ব্যক্তিকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’