
সিলেটের ওসমানীনগরে চোরাই গরু দিয়ে যুক্তরাজ্য বিএনপি কর্মীর বাড়িতে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তুমুল সমালোচনা।
চোরাই গরু দিয়ে ইফতার মাহফিল আয়োজনের বিষয়টি জানাজানি হলে বিএনপির ওই কর্মী গরুর মালিককে মূল্য পরিশোধ করেছেন। গ্রামের সালিসে যুক্তরাজ্যপ্রবাসীর বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওসমানীনগরের পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের গলমুকাপন গ্রামে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এম আহমদ ওরফে মধু মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। এম আহমদ যুক্তরাজ্য বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি জানুয়ারি মাসে সিলেট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনার নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে দেশে এসেছিলেন। নির্বাচন শেষে ২৪ ফেব্রুয়ারি নিজ বাড়িতে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন। পরে জানা যায়, ওই ইফতার মাহফিলে জবাই করা গরুটি ছিল চুরি করা। মাহফিলে অংশ নিয়েছিলেন চুরি যাওয়া গরুর মালিকসহ সহস্রাধিক মানুষ।
ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কয়েছ আহমদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, এম আহমদ সিলেট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে দেশে এসেছিলেন। তিনি দেশে আসার আগেই বাড়ির তত্ত্বাবধায়কের কাছে রোজায় ইফতার মাহফিল আয়োজনের জন্য একটি গরু কেনার টাকা পাঠিয়েছিলেন। দেশে আসার পর এম আহমদ নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত হয়ে গিয়েছিলেন। এদিকে তাঁর বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক ইফতার মাহফিলের আগের দিন একটি গরু জবাই করে মাংস প্রস্তুত করেন। সেই গরু যে চুরি করা, তা জানা ছিল না এম আহমদের। পরে বিষয়টি জানতে পারলে গরুর মালিককে ডেকে তাঁর ন্যায্য টাকা দিয়েছেন বিএনপির ওই কর্মী।
এম আহমদ গতকাল শুক্রবারে যুক্তরাজ্যে ফিরে গেছেন। এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে বাড়ির তত্ত্বাবধায়ককেও কাজ থেকে বের করে দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য প্রবাসীর বাড়ির তত্ত্বাবধায়কের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়।
গলমুকাপন গ্রামে বাসিন্দা রেজওয়ান আহমদ বলেন, ইফতার মাহফিলের জন্য যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাড়ির তত্ত্বাবধায়কের কাছে আগেই গরু কেনার টাকা পাঠিয়ে ছিলেন। কিন্তু বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক সে টাকায় হয়তো গরু কিনে বিক্রি করে ফেলেছিলেন কিংবা গরু না কিনেই টাকা খরচ করে ফেলেছিলেন। যুক্তরাজ্যপ্রবাসী দেশে আসার পর রোজার ষষ্ঠ দিন ইফতার মাহফিলের প্রস্তুতি নেন। বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক ইফতার মাহফিলের আগের দিন মাঠ থেকে অন্যজনের গরু নিয়ে জবাই করে মাংস বানিয়ে ফেলেন। এরপর ইফতার মাহফিলও হয়ে যায়। পরে গ্রাম থেকে একটি গরু চুরি যাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।
বিষয়টি খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে দেখা যায়, যুক্তরাজ্যপ্রবাসীর বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক ওই গরু লুকিয়ে এনে জবাই করেছেন। প্রবাসীর বাড়িতে লাগানো ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরাতেও বিষয়টি শনাক্ত হয়। এ ঘটনার সঙ্গে প্রবাসীর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তিনি নিজেও বিষয়টি জানতেন না। বিষয়টি জানার পর ওই প্রবাসী গরুর মালিককে নায্য টাকা পরিশোধ করেছেন।
একই গ্রামের হোসেন আহমদ নামের আরেক বাসিন্দা জানান, যুক্তরাজ্যের প্রবাসী এম আহমদ প্রায় ১৭ বছর পর দেশে এসেছিলেন। তিনি প্রবাসে থাকলেও এলাকার মানুষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ হয়। এদিকে তাঁর বাড়ির দেখভালের জন্য এক যুবককে রেখেছিলেন। দেশে আসার পর এলাকার অনেকের কাছে এম আহমদ বলেছিলেন, ইফতার মাহফিলের আয়োজন করবেন। এ জন্য তিনি আগেই একটি গরু কিনে রেখেছেন। কিন্তু বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক গরু না কিনে মাঠ থেকে এক প্রতিবেশীর গরু এনে জবাই করেছেন। পরে বিষয়টি প্রবাসীর বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরাতেই ধরা পড়ে। পরে গ্রামের সালিসে বিষয়টি স্বীকার করেছেন বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক সাইদ।
গরুর মালিক নাজমুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীর বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক সাইদ মাঠ থেকে গরু চুরি করেছিলেন। এর সঙ্গে প্রবাসীর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। প্রবাসী এম আহমদ বিষয়টি জানার পর গরুটির ন্যায্যমূল্য দিয়েছেন। প্রবাসীর প্রতি তাঁর কোনো ক্ষোভ নেই। তিনি তাঁর বাড়ির তত্ত্বাবধায়কের জন্য লজ্জিত হয়েছেন।