
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিনের মাথায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের খুলনা জেলা ও মহানগর কার্যালয়ে একদল নেতা–কর্মী উপস্থিত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিতে মাল্যদান করার ঘটনা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কেউ থানায় অভিযোগ বা মামলা করেনি।
গতকাল রোববার বিকেলে ওই কার্যালয়ে নেতা–কর্মীদের উপস্থিতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাতে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্রদের একটি অংশ সেখানে যান। তাঁরা কার্যালয়ের দরজা ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেন। ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই আগুন নিভে যায়।
এদিকে আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মীদের উপস্থিতি ও মাল্যদানের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে খুলনা মহানগর বিএনপি।
আজ সোমবার দুপুরে নগরের লোয়ার যশোর রোডের শামীম স্কয়ার শঙ্খ মার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগ জেলা ও মহানগর কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের প্রধান ফটকের তালা খোলা। ওপরতলায় আগুনে পুড়ে যাওয়া দুটি কক্ষে ময়লা ও আবর্জনা জমে আছে। গতকাল নতুন করে ভাঙচুরের চিহ্নও দেখা গেছে। বারান্দায় একটি পোড়া দরজা ও ছাই পড়ে আছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার যে ছবিতে মালা দেওয়া হয়েছিল, তা আর সেখানে নেই। কার্যালয়ের আশপাশে কোনো পুলিশের উপস্থিতিও দেখা যায়নি। কার্যালয়ের নিচতলার ব্যবসায়ীরা জানান, গতকাল রাতে পুলিশ আসার পর থেকে অন্য কেউ আর কার্যালয়ে প্রবেশ করেনি।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ বা মামলা করেনি। বিষয়টি বাড়তি সতর্কতা ও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
এর আগে গতকাল বিকেলে পরিত্যক্ত ওই কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো একদল নেতা–কর্মীর উপস্থিতি দেখা যায়। গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে ভবনটি পরিত্যক্ত ছিল। ওই সময় তাঁরা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে ফুলের মালা দেন এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক টি এম আরিফ হোসেন, সদর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়েজুল হক রুবেল, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন, জাকির হাসানসহ ১০ থেকে ১২ জনকে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে ফুলের মালা দিতে দেখা যায়। কয়েকজন ছোট জাতীয় পতাকা ধরে ছবি তোলেন।
পরে সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাদের নেতৃত্বে কার্যালয়ে আবার ভাঙচুর করা হয়। এ সময় দরজা ভেঙে ও পোস্টার ছিঁড়ে আগুন জ্বালানো হয়।