
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও ময়মনসিংহ নগরের বিভিন্ন সড়কে ঝুলছে প্রার্থীদের সাঁটানো প্যানা-পোস্টার ও ব্যানার। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক গত মঙ্গলবারের মধ্যে এসব নির্বাচনীসামগ্রী অপসারণের জন্য আদেশ জারি করলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ।
ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জয়ী হন বিএনপির প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ বিজয়ী হন। এসব প্রার্থীর পোস্টারে আবৃত শহরের প্রধান সড়ক নতুন বাজার, গাঙ্গিনারপাড়, চরপাড়া, জিলা স্কুল মোড়, টাউন হল মোড়সহ বিভিন্ন এলাকা। শুধু বড় বড় স্থানে নয়, অলিগলিতেও ৯ প্রার্থীর শত শত পোস্টার, ব্যানার, বড় বড় বিলবোর্ড টানানো হয়েছে।
নগরের সানকিপাড়া এলাকার বাসিন্দা তালহা জুবায়ের বলেন, নির্বাচন শেষ হয়ে গেলেও প্রার্থীদের পোস্টার এখনো টানানো থাকায় মনে হচ্ছে নির্বাচন শেষ হয়নি। তবে এসব সরিয়ে নিয়ে শহরের পরিচ্ছন্নতা ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। সব প্রার্থী যেমন টাকা খরচ করিয়ে এসব লাগিয়েছেন, তেমনিভাবে এগুলো সরানো উচিত।
নগরের গাঙ্গিনারপাড় ও ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গতকাল বুধবার বিকেলে গিয়ে পোস্টার সাঁটানো অবস্থায় দেখা যায়। ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কথা হয় হামিদুল হক নামের এক পথচারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ৬ দিন পেরিয়ে গেলেও নির্বাচনী প্যানা-পোস্টার এখনো সরানো হয়নি। শহরজুড়েই একই অবস্থা। দ্রুত এগুলো অপসারণ হওয়া উচিত।
নির্বাচনীসামগ্রী অপসারণের জন্য সদর আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। তাতে ভোটারদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ‘এখন সময় আমাদের শহর-গ্রামকে আগের মতো পরিষ্কার ও সুন্দর করে তোলা। জনদুর্ভোগ ও পরিবেশ দূষণ এড়াতে রাস্তাঘাট, দেয়াল, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও জনসমাগমস্থলে টাঙানো নির্বাচনী প্যানা, বিলবোর্ড দ্রুত অপসারণ করার জন্য আপনাদের প্রতি আহবান জানাই। নিজ নিজ প্রচারণাসামগ্রী সরিয়ে পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখুন। পরিচ্ছন্ন ময়মনসিংহ গড়া আমার আপনার সকলের দায়িত্ব।’
সুজনের ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, ‘এখনো দেখা যাচ্ছে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীদের প্যানা-পোস্টার শহরজুড়ে সাঁটানো আছে, যা শহরকে নোংরা করছে। আমরা চাই এগুলো দ্রুত অপসারণের মাধ্যমে শহরকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হোক।’
নির্বাচনী প্রচারসামগ্রী অপসারণ প্রসঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রার্থীদের আবারও অনুরোধ করা হচ্ছে তারা যেন নিজেদের সামগ্রীগুলো নিজেরা সরায়। পাশাপাশি আমরা সিটি করপোরেশন, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভাগুলোকে অনুরোধ করছি অপসারণের জন্য।’